• শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

হাতকড়া রহস্যে পিপির মন্তব্য!

admin
আপডেটঃ : বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫

সালমান এফ রহমান, জুনায়েদ আহমেদ পলককে হাজত খানা থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। এ সময় পেছনে হাত কড়ার প্রশ্নে

পিপি বললেন: তাঁরা হাত উঁচিয়ে সরকার বিরোধী বক্তব্য দিতে চায় এ জন্য পেছনে হাত নিয়ে হাতকড়া লাগানো হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) হাজত খানার প্রধান ফটক খুলে দেন দুজন পুলিশ সদস্য।

হাজত খানার সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি ছিল ,তাঁদের পেছনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল সাবেক বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

সালমান এফ রহমান ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের দুই হাত পেছনে, দুই হাতেই পরানো হাতকড়া।

পলকের পেছনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম ও ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। তাদের দুই হাত পেছনে হাতকড়া পরানো।

সোলায়মানের পেছনে সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক হাতকড়া পরানো অবস্থায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

মহিবুল হকের এক পাশে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলে শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতি দুই হাত বাঁধা অবস্থায় দাঁড়ানো ছিল।

সালমান, পলক, আতিকুল, মহিবুলদের মাথায় পুলিশের হেলমেট পরানো ছিল। আর প্রত্যেকের বুকে পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট।

সালমান, পলক, আতিকুল, মহিবুল ও জ্যোতি মাথা নিচু করে আদালত ভবনের নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠেন।

আদালত কক্ষের সামনে নেওয়ার পর তাঁদের প্রত্যেকের মাথা থেকে পুলিশের হেলমেট খুলে দেওয়া হয় । তাঁদের কাঠগড়ায় নেওয়া পর দুই হাতে হাতকড়া থেকে এক হাতের হাতকড়া পুলিশ খুলে দেয়। তখন সালমান, পলক, আতিকুল, সোলায়মান মহিবুল ও জ্যোতিরা মাথা নিচু করে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন।

তখনো বিচারক এজলাসে আসেননি। দেখা গেল, পলক তাঁর একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছেন।

আইনজীবীকে পলক বলেন, ‘আমি এখন জামিনের আশা করি না। কিন্তু আপনি আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতিটি মামলার এজাহার ও অভিযোগ পত্রের হুবহু অনুলিপি তুলবেন।

এরপর পলক তাঁর আইনজীবীকে একের পর এক পরামর্শ দিতে থাকেন। পলকের পাশে দাঁড়ানো আতিকুল ইসলাম ও তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন।

আর সালমান এফ রহমান কাঠগড়ায় যাওয়ার পর থেকেই তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে মামলাসহ নানা বিষয়ে কথা বলতে থাকেন। এ সময় কর্মকর্তা বলেন স্যার (বিচারক) আসছেন।

এজলাসে বিচারক আসার পর পুলিশের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান ও আতিকুলের নাম ধরে ডাকেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সালমান ও আতিকুলের বিরুদ্ধে ভাটারা থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তখন আদালত তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পলকের বাঁ হাতে পরানো হাতকড়া। ডান হাত কাঠগড়ার রেলিংয়ের ওপরে রাখা। বিচারকের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন পলক।

তখন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা রিয়াজ হত্যা মামলায় পলককে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

রিমান্ডের সপক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।

ওমর ফারুক আদালতকে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের অবৈধ প্রতিমন্ত্রী পলক জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে ছিলেন। জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগ নারী শিক্ষার্থীসহ অন্যদের বেধড়ক পিটিয়ে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করেছিল। আন্দোলনের সময় ধানমন্ডি এলাকায় রিয়াজকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলন কারীদের গুলি করে হত্যার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন পলক।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন পলকের আইনজীবী। তাঁর আইনজীবী আদালতকে বলেন, সম্প্রতি একটানা পলকের ১২ দিন রিমান্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর আগেও তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।

আদালত শুনানি নিয়ে পলকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি চলাকালে বিচারকের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন পলক ।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলে জ্যোতি আজ চুপচাপ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আসামিদের শুনানির সময় শাফি ও সোলায়মান নিজেদের মধ্যে বেশ কয়েক বার কথা বলতে দেখা গেছে।

রামপুরা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় জ্যোতিকে রিমান্ড দেওয়া জন্য যুক্তি তুলে ধরেন পিপি ওমর ফারুক ।
তিনি আদালতকে বলেন, এই আসামি চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তিনি পুলিশে নিয়োগ–বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। তাঁর বাবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তিনি একটি গ্যাং তৈরি করে ছিলেন।

তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে আদালতে বক্তব্য দেন শাফির আইনজীবী। তিনি আদালতকে বলেন, তাঁর মক্কেলকে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানির জন্য একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তাঁর বাবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। বাবার দায় সন্তানের ওপর চাপানো হচ্ছে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জ্যোতির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক ও ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামক তাদের দুই হাত পেছনে হাত কড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়। কাঠ গড়ায় চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়ানো ছিলেন।

তাঁরা নিজেদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন।
আতিকুল ও সালমানকে ভাটারা থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শেষ হলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।
মহিবুলকে তেজগাঁও থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

বিচারক এজলাসে ত্যাগ করার পর পুলিশ আবার কাঠ গড়ায় সালমান এফ রহমান, পলক, মহিবুল, সোলায়মান ও জ্যোতির হাত পেছনে নিয়ে হাত কড়া পরিয়ে দেয়। আবার তাঁদের মাথায় পরানো হয় হেলমেট।

সালমান, আতিকুল, মহিবুল দের আদালত ভবনের দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে হাজত খানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ ২৭ জন মন্ত্রী গ্রেপ্তার হন। তাঁরা কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন শেখ হাসিনা সরকারের ৬ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী। শেখ হাসিনার ৩ জন উপদেষ্টা গ্রেপ্তার করেছে । এছাড়া গ্রেপ্তার করেছে ৪৩ জন সাবেক সংসদ সদস্য ও ১১ জন সাবেক আমলা।

৫ আগস্টের পর আনিসুল হক ,সালমান এফ রহমান সহ সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব, মেয়র দের এক হাতে হাত কড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হতো।

দুই সপ্তাহ ধরে কয়েক জনকে দুই হাত পেছনে দিয়ে হাত কড়া পরিয়ে হাজত খানা থেকে আদালতে তোলা হয়েছে।

হাত কড়া পরিয়ে আদালতে তোলা প্রসঙ্গে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, ‘ইদানীং সালমান, আনিসুল সহ বেশ কয়েক জন আসামি হাজত খানা থেকে আদালতে তোলার সময় হাত উঁচু করে চিৎকার করে সরকার বিরোধী বক্তব্য দিতে চান। তাঁরা যাতে হাত উঁচু করে এ ধরনের কথাবার্তা না বলতে পারেন, সে জন্য তাঁদের হাত পেছনে নিয়ে হাত কড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ