এইচ.এম.রেজাঃঃ
তুমি কে, আমি কে?
রাজাকার, রাজাকার!
কে বলেছে, কে বলেছে?
স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!
এই একটি শ্লোগান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল পেশার, সকল শ্রেণীর মানুষের হৃদয়ের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করে অগ্নিবারুদের বিস্ফোরণ ঘটায়।
সূচনালগ্নঃ
৩ জুলাই ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের শাসন আমলে ছাত্ররা চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দোলন শুরু করেন, সেই আন্দোলনের অন্তরালে সমর্থন জামায়াতে ইসলাম, বিএনপি ও সমমনা দলগুলোসহ ইসলামী দল গুলোর। ১৫ জুলাই থেকে আন্দোলন যেনো না থেমে যায় তাই ছাত্র-শিবিরের পরিকল্পনায় ব্যাপকতা লাভ করে। যার ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের সাথে কথা বলার জন্য মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেন, তার ব্যর্থ হন। এর মধ্যে স্যোসাল মিডিয়ায় রংপুরের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার ছবি ভাইরাল হয়। ছাত্ররা পুলিশের উপর হামলা, আওয়ামীলীগের মিছিলে নেতা কর্মীর উপর হামলা, ছাত্রদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা এই সংবাদ মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। এই অবস্থায় দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় ছাত্রদের সাথে সমন্বয় করতে।
তবে ছাত্রদের সামনের সারির নেতৃত্ব জামায়াত, বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে আলোচনা শেষ করে ফেলেছে। সরকার পরিবর্তনে চূড়ান্ত পরিকল্পনার কঠিন সিদ্ধান্তে দৃঢ়তার রূপ ধারণ করেছে। যে কারণে ছাত্ররা সরকার ও আওয়ামীলীগের কারো কথা শুনেন নাই। ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে শিবিরের নেতারা থেকে নিজেদের রক্ষা করেছে। যে কারণে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ছিল দুই দলীয় একবার ছাত্রলীগ হয়ে ছাত্রদের মারা, আবার সাধারণ ছাত্র হয়ে ছাত্রলীগের উপর হামলা করা। এই ভাবে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে ছাত্রশিবির। আর হত্যা করতে থাকে সাধারণ ছাত্র জনতা ও পুলিশ সদস্যদের। পুলিশ নিজেকে রক্ষা করার জন্য জলকামান, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ব্যবহার করে, আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন, যাতে মানুষের ক্ষতি না হয়,গ্যাস চোখে লাগে ও রাবার বুলেটের ব্যাথা পেয়ে ছাত্ররা চলে যায়। সেই সময় আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পাই একএক স্থানে ২৫/৩০ জন পুলিশ একসাথে ৫ জন, ৭ জন বা ১০ জনে রাবার বুলেট গুলি করছেন, কিন্তু গুলি লাগলো একজনের বাকি গুলি কোথায়? আমরা কাউকে গুলি অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখতে পেলাম না। কতো জন পুলিশ একসাথে গুলি করলো আহত হল এক জন। সেই এক জনকে কে নিয়ে গেল? এ প্রশ্নটির উত্তরের অন্তরালে ছিলো ক্ষমতার পালাবদল। আহত হওয়া ছাত্রের ৮ / ১০ ঘন্টা পর তার ছবি স্যোসাল মিডিয়ায় আসলো, ছবি দেখা গেল, লাশ দেখা গেল না।
অথচ, সূত্রমতে, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের সময় জাতিসংঘের হিসেবে ৬৫০ জন নিহত হয়েছে ছাত্র। অন্যদিকে টাইম ম্যাগাজিন তাদের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ খুন হয়েছে৩২০৪ জন, পুলিশের এমন প্রানঘাতি পরিস্থিতিতে যখন তারা নিজেরা নিহত হচ্ছে, তখন পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য রাবার বুলেট গুলি করেছে । যদি পুলিশ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে সরাসরি গুলি করতো তাহলে ৩২০৪ জন পুলিশ হত্যা হতো না এবং তার বিপরীতে ৬৫০ জন ছাত্র মারা যাওয়া কি গনহত্যা হতে পারে? টাইমস ম্যাগাজিন এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
পুলিশের জীবন বাঁচানোর অধিকার আছে , যেমন নাগরিকদের আছে। পুলিশকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে তা প্রতিটি নিউজ চ্যানেলের হাতে থাকার পরও প্রচার করা হয় নাই। তা হলে সংবাদমাধ্যম কি নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করছে? তথ্য গোপন রেখেছে বিশ্বের সকল মিডিয়া, এর সাথে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের একটি প্রেক্ষাপট। আর সেই ষড়যন্ত্রের শিকার বাংলাদেশের পুলিশ, ছাত্র জনতা,অর্থনিতি ও উন্নয়ন। দেশের ইতিহাসে উন্নয়ন একটি উদাহরণ , তা থমকে গেছে আমেরিকার ষড়যন্ত্রের কারনে। আমেরিকার এই অগনতান্ত্রিক আচরণ শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্বকে ঝুকির মধ্যে ফেলেছে। গনতন্ত্র – স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আজকের সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সারা দেশে পুলিশ সদস্য হত্যা করা হলো,লাশ বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়ে রাখলো তার ছবি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় নাই। সাধারণ মানুষ হত্যা করে বিকৃত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হলো,তাদের বিচার হবে না মামলা দায়ের করা যাবে না। এই সকল হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত চেয়েছেন খোদ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এবং যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে এই অস্ত্র পুলিশের কাছে নাই। কারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সর্ঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হোক।
মানবেতর জীবনযাপনে তৃণমূল কর্মীরাঃঃ
জুলাই আন্দোলনের মাধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সমাপ্তি ঘটে। আন্দোলনে শেখ হাসিনার প্রান নাসের হুমকি থাকায়, সেনাবাহিনীর বিশেষ বিমান যোগে, দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী পাশের দেশ ভারত সহ-বিভিন্ন দেশে চলে যায়। আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, শেখ হাসিনার কোটি কোটি কর্মী সমর্থক দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে কষ্ট করছেন। ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘরে, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লুটপাট ভাংচুর মব জাস্টিস এর মাধ্যমে নেতা কর্মীদের হত্যা করা, নির্যাতন করে ধরিয়ে দিচ্ছে। কিছু নেতা অনলাইনে খোজ নিলেও সহযোগিতা করেনি কোন নেতা।
শেখ হাসিনার কিছু কর্মী যাদের দেওয়ার সামর্থ্য নাই, তার কিছু কর্মীদের সামান্য সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।
৫ আগস্টের পরে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে সমন্বয়কদের কথা শুনেছি ও দেখেছি, সমন্বয়করা বলেছেন মেট্রোরেলে আগুন না দিলে পুলিশদের হত্যা না করলে আমরা এতো সহজে আমাদের কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতাম না। একজন উপদেষ্টা বলেন ৫ আগস্টে ক্ষমতা না ছাড়লে শস্ত্রযোদ্ধ করতাম, এর অর্থ তারা ক্ষমতা নেওয়ার জন্য সকল ব্যবস্থা করে ছিলেন।
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আমেরিকার একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন ছাত্র আন্দোলন ৪ বছর ধরে সংঘটিত করা হয়েছে। যা রীতিমতো একটি বৈধ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার সামিল। ডা. মোহাম্মদ ইউনুসের মতো একজন লোভী, উচ্চবিলাসী মানুষ, দেশের টাকা আমেরিকার নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ও বাইডেনের জন খরচ করেন। দেশের অসহায় মানুষের জন্য এক টাকাও কিছু করার মানসিকতা দেখাতে পারেননি তিনি। কিন্তু নিজে ৬০০ কোটি টাকার উপর কর মওকুফ করিয়েছেন ক্ষমতার চেয়ারে বসেই। ২০২৯ সাল পর্যন্ত যেনো কোনো কর না দিতে হয় সে সুযোগটিও নিয়েছেন তিনি। কোনো নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করেই গ্রামীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয় একএক জন উপদেষ্টা দের এক এক ধরনের কথা বলার কারণে আজ দেশ আগুনের ফুলকি, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের নিলাখেলায়। নামধারি কিছু ছাত্র ও বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ মেতে উঠেছে লুটপাট ও বিতর্কীত কর্মকান্ডে।
একজন উপদেষ্টার বাবা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজের দলের কর্মীদের হাতে মাইর খাওয়ার পরেও নির্লজ্জ তিনি যখন বলে, সন্ত্রাসী দের মারা উচিত। তাহলে দেশের জনগণের নিরাপদ থাকবে কি ভাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কি দোষ ছিল?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে মাথা নত করে নাই, ইজরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান,ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা ,
আমাদের সেন্টমার্টিন দ্বীপ না দেওয়া, আমেরিকা সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার উপর ছুরি ঘুরাতে না দেওয়ার কারণে আজ শেখ হাসিনা দেশ ছাড়া।
এখন দেশের মানুষ বুঝে গেছে। স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প নাই।
দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছেন। অনেক মিডিয়ায় সামনে প্রকাশ্যে বলেছেন। উপদেষ্টাদের কথার কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না। উৎসাহিত হয়ে একেরপর এক অপকর্ম করে চলেছে।
এই দখল বাজ, জঙ্গি বাজ ও মৌলবাদী জালিমের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে, একমাত্র নেতা, বিশ্ব নেতা শেখ হাসিনার বিকল্প নাই বাংলাদেশে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ও রোজার মধ্যে শেখ হাসিনার কয়েকটি অনলাইন অডিও শুনেছি, স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে,আপা অনুমতি দেন, নেত্রী অনুমতি দিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়ে রাস্তায় নেমে যাব। তাদের আপা, নেত্রী অনুমতি দিলেন এবং বললেন কালকের থেকে নেমে যাও।
যারা কাজ করবে তাদের পদ আমি দেখবো, এখন কাজ করো।
তাদের কাউকেই রাজপথে দেখা না গেলেও কোথাও কোথাও দলের প্রাণ, কোনো সুবিধা না পাওয়া তৃণমূল রাস্তায় নেমে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন।
শেখ হাসিনার কর্মীদের রাস্তায় নামানোর জন্য তার একদম আপন জন দিয়ে রাজ পথের নেতা কর্মীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। পালিয়ে যাওয়া কিছু চিটার নেতা কর্মীরা অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন কর্মীরা তাদের কথা শুনতে চায় না।
ক্ষমতায় থাকতে তারা তাদের পাশে থাকা ৫/৭ জনের বাইরে কাউকে দেখতে পারতো না। কর্মীরা ও তাদের কথা শুনে কাজ করে না। এখনো নেতারা দেশের বাইরে বসে গ্রুপিং করছে। আর শেখ হাসিনার কাছে ভালো থাকছেন।
শেখ হাসিনার কর্মীরা শুধু প্রিয় নেত্রীর একটি ডাকের অপেক্ষায়, সুযোগের অপেক্ষায় যে কোন সময় রাস্তার নেমে আসতে প্রস্তুত।