★ ডেস্ক নিউজঃ ৫ আগস্টে ২০২৪ এর পর থেকে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত কাজে তেমন দেখা যায় না। ৫ আগস্টের পর ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার লুকিয়ে গিয়ে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তার আগে প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলে এসেছেন। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন সাথে সাথে প্রধান উপদেষ্টা। সেই নিয়ম মানা হয় নাই।
এরপর আর দেখা যায় নাই রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রিয় বা ব্যক্তিগত কাজে। ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসে, সর্বশেষ দেশের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে। প্রতি বছর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি এবার আর দেখা যায় নাই ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রপতিকে।
দেশের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বন্দী কি না? আজ ৮ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে বর্তমান সরকারের এর মাঝে একদিন ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে জনগণ দেখতে পায়নি। এমন কি নিজের গ্রামে ও যায় নাই। দেশের মানুষ বলছে রাষ্ট্রপতি সকল অন্যায় অভিযোগ মেনে নিয়েছে। তা না হলে আজ দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত , নিম্ন আয়ের মানুষ ও দেশের একটি বড়ো অংশ অসহায় শ্রমিক জনগোষ্ঠী পৌঁছে গেছে দারিদ্র্য সীমার কাছাকাছি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সোসাল মিডিয়ায় প্রকাশিত যে সকল সংবাদ দেখতে পাইতেছি, তাতে করে মনে হলো, দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু নাই। প্রতি দিন কোথাও না কোথাও মানুষ কে পিটিয়ে, আগুন ধরিয়ে, কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাহেব বঙ্গভবনে চুপচাপ থাকা মানে, দেশের সকল অন্যায়, মানুষের প্রতি অন্যায়, রাষ্ট্রপতির প্রতি করা সকল অন্যায় মেনে নিয়ে বঙ্গভবনে সপরিবারে চুপচাপ মাসের পর মাস অতিবাহিত করবেন।
অথচ রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। তার উপর আইন অর্পিত রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কর্তব্য পালন করিবেন।
কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কতৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মন্জুর করা এবং যে কোন দন্ডের মওকুফ, স্থগিত বা কমানোর ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির আছে।
রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিংবা অনুরূপ কোন কার্য করিলে বা না করিলে,সে জন্য তাকে কোন আদালতে জবাব দিহিতা করতে হবে না।
তবে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যাক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করবেন না।
রাষ্ট্রপতির কার্যভার কালে তার বিরুদ্ধে আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা, গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান
সরকারের সকল শাসন সংক্রান্ত কাজ তাঁর নামে পরিচিত হয়।
রাষ্ট্রপতি – প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টা পরিষদের সকল সমস্যাদের নিয়োগ করেন। রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের যেমন ( মহা হিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা) দের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দিয়ে থাকেন।
অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে, দেশের নিরাপত্তা বা শান্তি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে, রাষ্ট্রপতি জরুরী অবস্থা জারি করতে পারেন।
জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা, দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের খেতাব দেওয়া,পদক ও সম্মাননা প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া দেশের কোন নাগরিক অন্য কোন দেশের উপাধি, সম্মাননা পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করতে পারেন না।
বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় চুক্তি দলিল রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় সম্পাদিত হয়।
আজ দেশের মানুষ নিরবে কান্না করছে, শ্রমিক ভাই বোনের ভূকা থালা নিয়ে রাস্তায়, আর রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পরিবার সহ বন্ধী মানুষের মতো জীবন যাপন করছেন।