• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

জাপানের স্বপ্নভঙ্গ, পরের রাউন্ডে ব্রাজিল

admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

খেলার ডেস্ক রিপোর্টঃ ম্যাচের এক ঘণ্টা পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জাপান। পরে কাসেমিরোর সমতায় ফেরানো এবং শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জাপানের জালে বল জড়ালে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচের ২৯ মিনিটের সময় মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে। দলে পরিবর্তন আনে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন। কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো। মাগালহায়েসের অ্যাসিস্টে হেড করে জাল কাঁপান তিনি।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

এর কিছুক্ষণ পরেই গ্যাব্রিয়েল ব্যাক পোস্টে আরও একটি ডিপ ক্রস বাড়ান। এবার রায়ান হেডের মাধ্যমে বলের নাগাল পেলেও সুজুকির গায়ে লেগে বলটি পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং ব্রাজিল একটি কর্নার পায়। তবে জাপানের দৃঢ় রক্ষণের কারণে কর্নার থেকে কোনো সুযোগ তৈরি হতে পারেনি এবং তারা ব্রাজিলকে পেছনে হটে যেতে বাধ্য করে।

৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়।

৯০ মিনিটের খেলা শেষে ইনজুরি টাইম ৬ মিনিটের। একেবারে শেষ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে এক বিপজ্জনক জায়গায় তানাকা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষকে দিয়ে বসেন। মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে একটি থ্রু পাস বাড়ান গিমারায়েস। চোখের পলকে বলটি নিজের বাম পা থেকে ডান পায়ে নিয়ে নেন ৬৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি নামা মার্তিনেল্লি এবং সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে পোস্টে লাগিয়ে বল জালে জড়ান।

তারপর হিউস্টনে হলদে উৎসব শুরু হয়। আর সেই উৎসবে একটাই নাম—মার্তিনেল্লি! জাপানের স্বপ্ন ভেঙে শেষ ষোলেতে ব্রাজিল।

শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ