• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মুন্সীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ১০ পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯ হাজার শিক্ষার্থী জেনিথ ইসলামী লাইফের বীমায় অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দুই বছরের মধ্যে গ্রাম ও শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ গ্রেপ্তার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কানাডায় দুই নায়িকা নিয়ে ঝড় তুলছে জায়েদ খান আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে ফিরেছেন বাংলার জয়যাত্রার নাবিকেরা

admin
আপডেটঃ : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন আটকা থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’-এর নাবিকেরা দেশে ফিরেছেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে অবরুদ্ধ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ বিকেলে ঢাকায় অবতরণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। দেশবাসী যাঁরা দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার সময় অনেক জাহাজের নাবিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেন। অনেক জাহাজ খাবার ও পানির সংকটে পড়ে এবং কিছু জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ডুবেও যায়।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন। যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল এবং আশপাশে জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল। তখন সরকার তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বললেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি।

জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত বলে জানান তিনি।

জাহাজটির তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে হয়েছে। এ ছাড়া এলাকায় মাইন থাকার কারণে সামান্য বিচ্যুতিতেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।

নাবিকেরা বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় উপসাগর এলাকায় আটকা পড়ে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ