খেলার ডেস্ক রিপোর্টঃ চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সে নিজেদের রীতিমতো হাসির খোড়াকে পরিণত করেছে ফ্রান্স। আর এর মধ্য দিয়ে দলটির ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হলো এক চরম লজ্জাজনক অধ্যায়।
সেমিফাইনালে নিজ নিজ ম্যাচে তিক্ত হারের পর বিদায় নেওয়া দুই দলের কেউই মূলত আজকের এই সান্ত্বনার ম্যাচটি খেলার জন্য তেমন একটা মুখিয়ে ছিল না। তবে তাদের মধ্যে একটি দলের জন্য ম্যাচটি যে প্রথমার্ধেই এমন এক ঐতিহাসিক দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা কে ভেবেছিল!
খেলার শুরুতেই মাত্র ৩ এবং ১৬ মিনিটে দুটি গোল হজম করে বসে ফ্রান্স। ফরাসি ফুটবলের পরিসংখ্যান ভিত্তিক মাধ্যম ‘স্ট্যাটসডুফুট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স ফুটবল দলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের ম্যাচে ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই প্রতিপক্ষকে দুই গোল উপহার দেওয়ার রেকর্ড গড়ল তারা।
এর আগে ২০০৮ সালে রোমানিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফরাসিরা। আর বিশ্বকাপের টানা দুই ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল হজম করার ঘটনা তারা সর্বশেষ প্রত্যক্ষ করেছিল দীর্ঘ ১৬ বছর আগের এক টুর্নামেন্টে।
তবে ফরাসি সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ এটুকুই ছিল না, সামনে অপেক্ষা করছিল আরও বড় বিপর্যয়। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বুকায়ো সাকা আরও দুটি গোল করে ফ্রান্সের জালে বল জড়ান। প্রথমার্ধের এই স্কোরলাইন নিশ্চিতভাবেই ফরাসিদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। কারণ, বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধেই অন্তত চার-চারটি গোল হজম করতে হলো ফরাসি বহরকে।
বিরতির সময় ফরাসি তারকাদের এমন উদ্দেশ্যহীন ও কঙ্কালসার পারফরম্যান্সের তীব্র সমালোচনা করা হয়। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়া কৌতুহলী ছিল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফরাসি শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্সের পক্ষে প্রথম গোলটি করে ব্যবধান ১-৪ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই (৫৪ মিনিটে) ব্র্যাডলি বারকোলার লক্ষ্যভেদে ব্যবধান আরও কমিয়ে ২-৪ করে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ফরাসিরা।
পরে এমবাপ্পে ও দেম্বেলে আরও একটি করে গোল করলেও বুকায়ো সাকা ও ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ৪-৬ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় থ্রি লায়ন্সরা।
![]()