• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন

ঘটনার অন্তরালের ঘটনাই প্রাসঙ্গিক!

রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ (পর্ব-০২)

admin
আপডেটঃ : শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

::নূরে আলম জীবন::

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শঙ্কা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি গণপরিষদ নির্বাচন ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবেন না। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাবি করেন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে তারাও নির্বাচন মেনে নিবে না। সব কিছুর অন্তরালেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু এর মাঝে হঠাৎ করে দেশের রাজনীতিতে সহযোগীদের মধ্যে বিভাজন লক্ষ্য করা যায়। জুলাইয়ের ঐক্যে ফাটল দৃশ্যমান হয়। স্বার্থ ও লাভ কার কি হচ্ছে, কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি শুরু হয়। সম্প্রতি মাই টিভির মালিক সাথী ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেফতার হলে নানা নাটকীয়তা শুরু হয়। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে বাংলাদের বাহিরে অবস্থান করা জুলাই আন্দোলনের অনলাইন যোদ্ধা ইলিয়াস হোসেন দাবি করেন নুরুল হক নুরের সহযোগিয়া বা আশ্বাস ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর বাংলাদেশে আসেন তৌহিদ আফ্রিদি। নুর এই কাজটি করেন বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এমনটাই দাবি করা হয়। আর নুর দাবি করেন যারা দৈনিক জনকণ্ঠ দখলে নিয়েছেন যেভাবে মাই টিভিও সেভাবে দখলে নেয়ার চেষ্টা একটি চক্রের। এ নিয়ে বেশ উত্তপ্ত রাজপথ ও সোশ্যাল মিডিয়া। এরই মাঝে মবের শিকার হন ৭১ মঞ্চ আয়োজিত স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ, মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও অনেকেই। আওয়ামী লীগের দোসর দাবি করে যারা মবের সৃষ্টি করে মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে আঘাত করেন তাদের কোনো জবাবদিহিতায় না এনে যারা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলতে এসেছেন তাদেরকেই সন্তাস দমন আইনে গ্রেফতার! এ ঘটনার পর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।
মুক্তিযোদ্ধাদের আটকের রেশ কাটতে না কাটতে সেনাবাহিনী, পুলিশ কতৃক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর ব্যাপক অত্যাচার। জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্ক্রকম বা নিষিদ্ধের দাবিতে মিছিলে ইটপাটকেল ঘটনার সূত্রপাতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি হয় গণপরিষদের নেতাকর্মীদের। নুরুল হক নুর সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। নুরদের অবস্থানে সেনাবাহিনী লাঠি চার্জ শুরু করলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। নুর মাঠিতে পরে যায়। কিন্তু লাল গেঞ্জি পরিহিত একজন নুরকে ব্যাপক মারধর করেন, যেখানে মনে হচ্ছে উদ্দেশ্য নিয়েই নুরকে মারা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি ফেসবুকে লিখেছেন নুর সম্প্রতি মাই টিভির মালিক থেকে ৫ কোটি টাকা দাবি নিয়ে মুখ খোলার কারণেই কি এমন হামলার শিকার হলেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেক কথা লিখেছেন স্যোসাল মিডিয়ায়। আবার অনেকে এটা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের পেতাত্তারা সেনাবাহিনীর হয়ে নুরকে মেরে ফেলার জন্য মেরেছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন নুর মারা গেলে সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকারকে এ দায় নিয়ে চরম মূল্য দিতে হবে। গণঅধিকার পরিষদের আরেক নেতা হুংকার দিয়ে বলেন সেনাপ্রধান ক্ষমা না চাইলে সেনা অধিদপ্তর ঘুরিয়ে দেয়া হবে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি বলেন, সরকার তালবাহানা করে জুলাই যোদ্ধাদের বিপদে ফেলছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ঘটনাগুলো কেনো? আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে এ সরকার বদ্ধপরিকর। সব দিক থেকে তারা কাজ শুরু করেছেন। অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ মনে করছেন আগামী ফ্রেবুয়ারিতে দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। যদি তারপরও সরকার ভোট আয়োজন করেই ফেলে তাহলে সংঘাতের সম্ভাবনা বেশি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যেখানে ভোটে মানুষের অনিহা, সেখানে কিভাবে মানুষ এতো আতঙ্কের মাঝে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। এ সরকারের জন্য নির্বাচন আয়োজনের আগে মানুষের আস্থা ফেরানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ