লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ১২ মে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ষষ্ট শ্রেণিতে ইংরেজি ক্লাস চলছিল। সেসময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক উম্মত আলী উপবৃত্তি দেওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে রেখে আসে। এরপর প্রধান শিক্ষক তার ছাত্রীকে মোবাইল কিনে দেওয়া এবং উপবৃত্তির কথা বলে প্রথমে হাত ধরে। এরপর হাত ও মুখে চুমু দেন এবং বুকে হাত দিয়া জাপটাইয়া ধরে। এরপর থেকে ভয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করেছে ওই ছাত্রী।
ঘটনার শিকার ছাত্রীর মা বলেন, মেয়ে সেদিন বাড়ি এসে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলে মিলন স্যার উপবৃত্তির কথা বলে লাইব্রেরিতে ডেকে হাতে মুখে চুমু দিয়ে জাপটায়ে ধরেছে। বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করেছে। এরপর থেকে ভয়ে মেয়ে বিদ্যালয়ে যায় না।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর থেকে মিলন মাস্টার মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে। কাউকে না বলার জন্য বাড়িতে লোক পাঠাচ্ছে। বসে মিলতাল করার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমি বিচারের আশায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
ছাত্রীর চাচা বলেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিলন মাস্টার বার বার ফোনে হুমকি দিচ্ছে। মাপ চাচ্ছে। এসব কথা ফোনে রেকর্ড আছে।
ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী বলে, উপবৃত্তির কথা বলে উম্মত স্যার ডেকে নিয়ে যায়। আর মিলন স্যার খারাপ কিছু করেছে। ভয়ে স্কুলে যাচ্ছিনা এই কয়দিন। আমি বিচার চাই। তার ভাষ্য, অনেক মেয়ের সঙ্গেই ওই স্যার এমন আচরণ করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মিলন বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রীকে ডেকেছিলাম শাসন করার জন্য। খারাপ কিছু করিনি। ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তার ভাষ্য, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
![]()