জেলা ডেস্ক রিপোর্টঃ নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে মুস্তাকিম মিয়া নামে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় এলাকায় পুলিশ কমা সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বা বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত মুস্তাকিম সায়দাবাদ এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম কমা সোহান ও রোজিনা বেগমের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে কমা সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে এলাকায় হানিফ মাস্টার এবং এরশাদ মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগেও একাধিকবার হামলা কমা পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান কমা পূর্ব বিরোধের জেরে বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
সন্তান হারিয়ে নিহতের মা শাহানা বেগম আহাজারি করে বলেন কমা সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় মাসুম তাকে গুলি করে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নই। যারা আমার বুক খালি করেছে কমা আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান কমা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান কমা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
![]()