• শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

শুধু যেন কথার কথা না হয়

ধর্ষণ, মব, ডাকাতি ও ছিনতাই সহ নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা সরকারের

admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

দেশে নৈরাজ্য, ধর্ষণ ডাকাতি, ছিনতাই ও মব জাস্টিসের ঘটনা গত কয়েক মাসে যে হারে বেড়েছে, তা উদ্বেগজনক। মাগুরার আট বছরের শিশু ধর্ষণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হেনস্তা, গাজীপুরে শিশু ধর্ষণ নরসিন্দি গর্ববতি মহিলা সহ একের পর এক ঘটনা জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১২টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ধর্ষণের মামলা হলেও খুব কম ক্ষেত্রে অপরাধীকে শাস্তি পেতে দেখা যায়। একদিকে নারী বিষয়ে পুলিশ সহজে মামলা গ্রহণ করতে চায় না। আর মামলা হলেও সঠিকভাবে উহার তদন্ত হয় না। আদালতে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়ন অপরাধ মুলক মামলার প্রমাণ সংগ্রহ করা দুরূহ হয়ে পরেছে। বিচার কর্যক্রমে সচ্ছতা না-থাকার কারনে বাদীপক্ষ বহু ক্ষেত্রে মামলা চালাতে উৎসাহ হারায়। সে কারণে অপরাধীর শাস্তি হয় না। সর্বোপরি, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ধার্য করিবার পর ও অপরাধ আদৌ হ্রাস পাইতেছে না, বরং অপরাধ বেরেইচলছে । গত মাসেই অন্তত ১০৭ নারী ও কন্যাশিশু নিপীড়নের শিকার। এক মাসে ৫৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যাহাদের মধ্যে ৩৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সাম্প্রতিক সময়ে ‘মব ভায়োলেন্স’-এর মাধ্যমে নারী হয়রানির প্রবনতা বেরেচলছে।নারী-বৈরী সামাজিক পরিস্থিতি এবং আইনগত দুর্বলতার ফসল, ইহা বোঝা যায় ।
তবে নারীর এই নিরাপত্তাহীনতা নিয়াও নাগরিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে বিশেষত তরুণ সমাজে এক প্রকার জাগরণও দৃশ্যমান। দুই দিন যাবৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণ-তরুণীরা যেভাবে ধর্ষক ও নারী নিপীড়কদের কঠোর শাস্তি দাবিতে উচ্চকণ্ঠ,অব্যাহত রাখা জরুরি বলিয়া আমর মনে করি।

সাম্প্রতিক সময়ে অরাজকতা, নৈরাজ্য, ধর্ষণের কারণে মানুষ প্রতিবাদ করছে। এতেকরে সরকারের টনক নড়েছে। এখন সরকার বলছে দ্রুততার সঙ্গে বিচার হবে। উপদেষ্টারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে মব জাস্টিস, নৈরাজ্য বা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেরিতে হলেও তাদের যে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে সেজন্য ধন্যবাদ। একজন উপদেষ্টা বলেছেন সব মবের হিসাব আছে তাই আশা করব সব মব ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় হবে।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত ১৫ দিনে এবং বিচার ৯০ দিনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা, জামিন না দেয়ার প্রস্তাব এবং আইন সংশোধনের উদ্যোগ ইতিবাচক পদক্ষেপ তবে বর্তমান আইনে ফাঁসির আদেশ আছে। আমরা আশা করব, পক্ষপাতহীনভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশা করব, যে বার্তা দেয়া হচ্ছে তাতে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না।

তবে সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। ১৫ দিনে তদন্ত করা হবে। সে তদন্ত যেন সর্ঠিক হয়। উদোর পিন্ডি যেন বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া না হয়। সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

অপরাধীদের শনাক্তকরণে পরীক্ষার সুবিধা সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে তদন্তে কোনো ত্রুটি না থাকে।

ধর্ষণ ও মব’সহ সকল নৈরাজ্যের ঘটনা সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ একমাত্র এই অপরাধ কমাতে পারে। দেশ নৈরাজ্যের দিকে চলে গেছে। একে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তার ফল কারও জন্য ভালো হবে না, সরকারের জন্য তো নয়ই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ