• শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

ঢাকা-বেইজিংয়ের সমঝোতায় ১ চুক্তি ও ৮ এমওইউ স্বাক্ষর

admin
আপডেটঃ : শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫

★ নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় সূচনা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি ও আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লাসিক সাহিত্য অনুবাদ ও প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিনিময় ও সহযোগিতা, সংবাদ ও গণমাধ্যম বিনিময়, ক্রীড়া এবং স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কিত সহযোগিতা।

এছাড়াও দুই দেশ যৌথভাবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ বিষয়ক আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা, বাংলাদেশে চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল চালুর ঘোষণা, মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর, একটি রোবট ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং একটি কার্ডিয়াক সার্জারি যানবাহন অনুদান প্রদান।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আগে শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের যুবশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান বাজার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৬ মার্চ চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছান। এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমুখী করবে।

চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে রোবটিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কার্ডিয়াক সার্জারি যানবাহন প্রদান বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল বলে সরকারি মহল থেকে জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ