নিউজ ডেস্কঃ সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আসাদপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘর্ষে আলাউইত সম্প্রদায়ের এখন পর্যন্ত ৩৪০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদুর রহমান বলেন, বানিয়াস ও তার আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
সিরিয়ায় আসাদের সমর্থকরা অস্ত্র ব্যবহার শুরু করায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগামীদের বিদ্রোহের বিরুদ্ধে দমন অভিযানে নেমেছে সিরিয়ার নতুন শাসকদল। বিদ্রোহীদের আক্রমণের পর গত বৃহস্পতিবার থেকে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানের সময় সরকারি বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
এদিকে, আলাউইত সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন পুরুষকে একটি গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সিরিয়ার প্রশাসন অভিযানে কিছু অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেছে এবং তাদের দাবি, বেসামরিক নাগরিক ও অসংগঠিত সশস্ত্র দলগুলো সহিংসতার জন্য দায়ী।
শনিবার সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এছাড়া, সামরিক আদেশ ভঙ্গকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আদালতে পদক্ষেপ নিতে একটি জরুরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। তাদের আশঙ্কা, সিরিয়ায় নতুন শাসকদল সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হতে পারে।
বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একটি টেলিভিশন ভাষণে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে অবশ্যই সংযত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, শত্রুদল ও তাদের পার্থক্য হলো তারা নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেসময়, আহমেদ আল-শারা সতর্ক করে বলেন, যদি তারা নিজেদের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেন, তবে শত্রুদের থেকে তারা ভালো থাকতে পারবেন না।
এদিকে, সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার আলাউইত শিয়ারা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকশ’ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ লাতাকিয়া শহরের রুশ সামরিক ঘাঁটি হেমেইমিমে আশ্রয় নিয়েছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বানিয়াস ও তার আশপাশের গ্রামগুলোতে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। একে আলাউইত শিয়াদের বিতাড়িত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন মানবাধিকারকর্মী আবদুর রহমান।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের উপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তারা।