রাজধানী ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও আবাসিক গ্রাহকেরা। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের আয়-রোজগার কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নাবান্নাও ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত খরচ করে বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
মঙ্গলবার ও বুধবার (১৮ ও ১৯ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বনশ্রী, গোড়ানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গ্যাস সংকটের এমন চিত্র দেখা গেছে।
অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় অনেক স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় ধীরগতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
রাজধানীর মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি ফুয়েলিং স্টেশন, বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন, আর কে মিশন রোডের এনএস সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টার এবং মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়।
কোথাও কোথাও গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে সীমিত পরিসরে সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্টেশনে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের চাপ কম থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় বিকাল পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দৈনিক জমা, কিস্তি ও সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি স্টেশনে লাইনে অপেক্ষমাণ চালক মো. সাকিব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। সকাল ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, বিকাল ৪টা পর্যন্তও সিরিয়াল পাইনি। গ্যাস না পেলেও মালিককে প্রতিদিন জমা দিতে হয়। এনজিওর কিস্তি, পরিবারের খরচ—সব মিলিয়ে খুব কষ্টে আছি।
শুধু সিএনজি স্টেশনেই নয়, আবাসিক এলাকাতেও সংকটের প্রভাব পড়েছে। মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও গোড়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় সারা দিনে চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে।
গোড়ানের এক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাসায় গ্যাস থাকে না। ছোট সন্তান নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। রান্না করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।
মালিবাগ হাজীপাড়ার সিটি ওভারসীজ সিএনজি স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. রাসেদুজ্জামান রুবেল বলেন, মাস ধরেই গ্যাসের চাপ কম। গতকাল সারা দিন চাপ কম থাকার পাশাপাশি রাতে বেশ কিছু সময় গ্যাস বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনোভাবে চললেও দুপুর ১২টার দিকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রাজধানীর পরিবহণব্যবস্থা ও আবাসিক জীবনে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
![]()