আইন ডেস্কঃ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় আদালতের ২০১১ সালের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেই এই নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ ওঠার পর আদালত এ আদেশ দেন।
বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, প্রকল্প পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার মামলা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিটের শুনানি শেষে। মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন আদালত।
কক্সবাজার পৌরসভা সম্প্রতি শহরের সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা নিয়ে আগে থেকেই পরিবেশবাদী সংগঠন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের আপত্তি ছিল।
বেলার পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী আদালতকে জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত, ফলে সেখানে বড় ধরনের নির্মাণকাজের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা শুধু ল্যান্ড ইউজের অনুমতি নিয়েই কাজ শুরু করে দেন।
তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী সমুদ্রসৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ, তারপরও বালিয়াড়ির ভেতর দিয়েই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছিল। মামলার অপর পক্ষে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১০ সালে কক্সবাজার সৈকতের দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে করা জনস্বার্থ রিটের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে হাইকোর্ট সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়ির সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন- যে নির্দেশনা কার্যকর করতে দুই দফায় উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়।
মোরসেদ বলেন, পৌরসভার এই নতুন সড়ক প্রকল্প সেই ২০১১ সালের নির্দেশনার পরিপন্থী এবং সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করছে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ চলার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এইচআরপিবি আদালত অবমাননার মামলা করে; একই ইস্যুতে প্রকল্পের কাজ বন্ধের দাবিতে রিট আবেদন করে বেলা।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয় থেকেও প্রকল্পটি নিয়ে আগেই আপত্তি জানানো হয়েছিল, সংস্থাটির বক্তব্য, ইসিএভুক্ত সমুদ্রসৈকত এলাকায় বড় ধরনের সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
![]()