• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে ডিএসসিসির বর্ণিল ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কক্সবাজারের পেকুয়ায় জেনিথ ইসলামী লাইফের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদীয়ার উদ্যোগে ত্রাণ ও ঘর নির্মাণসামগ্রী বিতরণ নেপালকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্ত্রীসহ বিদেশে পালানোর চেষ্টায় শেখ পরশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতে রাস্তায় নেমেছিল: রিজভী গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

ইহুদী-নাসারাদের দাঁতভাঙা জবাব ইরান ও হিজবুল্লাহর

admin
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রধান প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (আইএআই)-এর সদর দপ্তরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরাইলি বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অভ্যন্তরে সিআইএ-র একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ তাদের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মার্কিন দূতাবাসের চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) স্টেশন লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদনে এই হামলাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি ‘প্রতীকী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা গেছে, ড্রোন আঘাত হানার ফলে দূতাবাসের একটি ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ধসে পড়া ভবনের অভ্যন্তর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং দূতাবাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত সোমবার সংঘটিত এই হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, ইরান সরাসরি এই ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। বর্তমানে দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গতকাল হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার রাত ২টার দিকে (জিএমটি ০০:০০) তারা একঝাঁক ‘অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে মধ্য ইসরাইলে অবস্থিত আইএআই সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংস্থাটি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি তৈরি করে থাকে। এছাড়া হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে যে, বুধবার ভোরে তারা উত্তর ইসরাইলে অবস্থিত একটি ‘ড্রোন কন্ট্রোল বেস’ বা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে আসা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আইএআই সদর দপ্তরে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর তারা সরাসরি নিশ্চিত করেনি। তবে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে স্থাপণাটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। উত্তর ইসরাইলে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের হুলা সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, তাদের যোদ্ধারা সফলভাবে একটি ইসরাইলি ব্যাটল ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইল বর্তমানে হিজবুল্লাহ এবং ইরানÑএই দুই দিক থেকে আসা যুগপৎ বা বহুমুখী হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র তারা মাঝআকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সেই ধ্বংস করা অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেল ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আছড়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বর্তমানে প্রচ- উত্তজনা বিরাজ করছে এবং ইসরাইলি বাহিনী তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। হিজবুল্লাহর এই ট্যাংক ধ্বংসের দাবি এবং ইরানের সরাসরি সংঘাতের সংকেত এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রিয়াদ, দোহা ও দুবাইয়ের মার্কিন দূতাবাসে হামলা : রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর কাতারকে লক্ষ্য করে ইরান দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে এবং আরেকটি ইউএস বিমান ঘাঁটি আল উবেইদ থেকে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, মঙ্গলবার বিকেলে দুবাইয়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট ভবনে ইরান ড্রোন হামলা চালানোর পর সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

চার দিনে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের : ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রথম চার দিনে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ হিসাব প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। সেখানে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূরপাল্লার আগাম সতর্কতামূলক রাডার ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই রাডারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১০ কোটি ডলার। কাতার কর্তৃপক্ষ রাডারটিতে আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে এক ‘মিত্রসুলভ গোলাবর্ষণ’ ঘটনার মধ্যে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়।

ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,১৪৫ : ইরানে চলমান ভয়াবহ সংঘাত ও অস্থিরতায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৪৫ জনে। হাসপাতাল সূত্র এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক তিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত : ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার কুয়েতের আকাশে আমেরিকার তিনটি শক্তিশালী এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় সরাসরি দায়ী কুয়েতি বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৮ ‘হরনেট’ ফাইটার জেট। একে সামরিক ভাষায় ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত নিজ পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরপরই ইরান দাবি করেছিল যে, তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মার্কিন এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে ভূপাতিত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখানো হয় যে, একটি এফ-১৫ বিমানে আগুন লেগে তা কুয়েতের আকাশে পাক খেতে খেতে নিচে পড়ে যাচ্ছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এটি ইরানের কোনো হামলা ছিল না, বরং কুয়েতি বিমান বাহিনীর একটি ভয়াবহ ভুল ছিল।

ইরান এখনও শক্তিশালী, স্বীকারোক্তি ইসরাইলের : ইসরাইলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের কয়েক ডজন মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হলেও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, যদিও তারা ইসরাইলি সীমান্তের জন্য হুমকিস্বরূপ বহু লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও ইরানের হাতে এখনও ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণে’ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে। ডেফরিন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা ক্রমাগত হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি, কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ অভেদ্য নয়।”

মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা সত্তেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা : মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সশস্ত্র পাহারা (এসকর্ট) দেবে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরেই ওমানের উত্তরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক কন্টেইনার জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়।

মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা কানাডা ও স্পেনের : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন কার্নি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ