• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা নিয়ে সামনে এলো নতুন তথ্য

admin
আপডেটঃ : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

জেলা ডেস্কঃ অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুল শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে নাম লেখেন ‘তানজু আক্তার’, বয়স ১৮ বছর; পরিচয় দেওয়া হয় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর স্ত্রী হিসেবে। তাজমিনের শেষ যাত্রাপথ ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক নতুন তথ্য।

তথ্য বলছে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তারা কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যাওয়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে কক্সবাজারে তাজমিনের অবস্থানের বিষয়টি হোটেলের রেজিস্টার খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ ও রিয়াজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় তাজমিন। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা আবাসিক হোটেলটির রেজিস্টার তথ্য বলছে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয় তাজমিন। রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। সেখানে রিয়াজের পরিচয় দেওয়া হয়েছে বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।

হোটেলটির এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যায়। হোটেলের রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজুর এক সহকর্মী আরও জানান, তিনি ও রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু সহকর্মী। তাজমিন হত্যাকাণ্ডের পর রিয়াজ তার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বাঁচানোর জন্য আকুতি-মিনতি করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন রিয়াজ।

তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের প্রথম পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এরপর সে এখানে এসে ঘোরাফেরা করে আবার চলে যায়। আর এই ঘটনার আগে রিয়াজ ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট কেটে তাজমিনকে বাসে তুলে দেন। রিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের বাসের টিকিটের দাম ছিল ৯০০ টাকা। এসব ঘটনার পর সে আপাতত হোটেল ছেড়ে ছুটিতে আছে বলে জানান ওই সহকর্মী।

অন্যদিকে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাদর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের ঝগড়া হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। সেখান থেকে সে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন রিয়াজ তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান।

এদিকে রিয়াজের সহকর্মীর দেওয়া তথ্য মতে, কুমিল্লায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও রিয়াজের সঙ্গে তাজমিনের মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালকের বিস্তারিত তথ্যও তাজমিন রিয়াজকে জানিয়েছিল। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাজমিনের ধর্ষণ ও হত্যার খবর দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন রিয়াজ।

ওই কর্মী আরও জানান, রিয়াজ গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত আছেন। ঘটনার পর থেকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মুঠোফোনের কললিস্টসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তদন্ত শেষ হলে বাকি সবকিছু জানা যাবে।

 

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ