• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গ্রাহকসেবায় ‘ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিস অ্যান্ড রিকভারি ইউনিট’ চালু প্রগ্রেসিভ লাইফের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু! কাঠালিয়ায় কোটি টাকার ব্রিজে কাঠের সাটারিং ও খুঁটি ব্যবহার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন পত্নীতলায় চোলাই মদের আস্তানায় অভিযান, সহস্রাধিক লিটার ওয়াশ ধ্বংস; গ্রেপ্তার ৩ ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫ জন তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হুথিদের ওপর বর্বরতা, সৌদি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ জেদ্দায় ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হত্যার পরেও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে জয়কে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়

কাঠালিয়ায় কোটি টাকার ব্রিজে কাঠের সাটারিং ও খুঁটি ব্যবহার

admin
আপডেটঃ : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেচরি গ্রামে বান্দাকাটা-কৈখালী সংযোগ সড়কে একটি ছোট নালার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের একটি ব্রিজ। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এই নির্মাণকাজে বড় ধরনের নিয়মবহির্ভূত কাঠামোগত অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটির নির্মাণকাজে শতভাগ লোহার (স্টিল) সাটারিং ও লোহার খুঁটি ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজের শুরুতে মাত্র আনুমানিক ২০ শতাংশ লোহার সাটারিং ও নামমাত্র কিছু লোহার খুঁটি ব্যবহার করা হলেও, বাকি পুরো অংশেই ব্যবহার করা হয়েছে মানহীন কাঠ, বাঁশের সাটারিং এবং গাছের খুঁটি বা বাল্লি। সম্প্রতি এই ব্রিজের ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অপরিকল্পিত ও দুর্বল কাঠের সাটারিং এবং গাছের খুঁটি ব্যবহারের ফলে সদ্য ঢালাই হওয়া ব্রিজটির ভারসাম্য যেকোনো মুহূর্তে নষ্ট হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

​এ বিষয়ে তদারককারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ঢালাইয়ের দিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাইটে উপস্থিত ছিলেন। ঢালাইয়ে কাঠের ব্যবহারের কথা স্বীকার করে এক কর্মকর্তা বলেন, “কিছু কিছু জায়গায় কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।” তবে সরকারি নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী শতভাগ স্টিল সাটারিং ও লোহার খুঁটির বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কাঠের ব্যবহার মেনে নেওয়া হলো—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি।

​ঘটনার অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা যখন ঘটনাস্থলে তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান, তখন বাধার মুখে পড়েন। অভি নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাইট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেন। শুধু তা-ই নয়, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে তিনি নিজের মোবাইল দিয়ে পাল্টা সাংবাদিকদের ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

​একটি ছোট নালার ওপর বিশাল অঙ্কের সরকারি খরচে নির্মিত এই ব্রিজটির দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা এখন চরম প্রশ্নের মুখে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ব্রিজটির সুরক্ষায় নির্মাণকাজ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ