রাজধানীর ভাটারা ও সবুজবাগ এলাকা থেকে তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন– নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা আল-আমিন হোসেন রায়হান (৩২), গাড়িচালক মো. ইপু (২৫) ও গৃহিণী সিমি আক্তার (২০)। গত সোমবার রাতের বিভিন্ন সময়ে তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
ভাটারা থানার ওসি রাকিবুল হাসান জানান, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রায়হান। তিনি ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ই-ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির চিলেকোঠায় থাকতেন। ঘটনাস্থলে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল– আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিবেশীরা জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আবারও বিয়ে করেন রায়হান। তবে দ্বিতীয় সংসারেও বনিবনা হচ্ছিল না। এসব নিয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন তিনি।
এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ফেসবুকে এ ঘটনাকে হত্যা বলে অভিযোগ করছেন। মৃতের খালাতো ভাই সাকিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জানালার সঙ্গে হাঁটু ভাঁজ করা অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল। তাহলে এটি কীভাবে আত্মহত্যা হয়? রায়হান অনেক শক্ত মনের মানুষ। সে আত্মহত্যা করতে পারে না।
এ ছাড়া সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার ছয় নম্বর সড়কের টিনশেড বাসা থেকে ইপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সবুজবাগ থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোমবার রাতে ধূমপান করা নিয়ে স্ত্রী কুলসুমের সঙ্গে ইপুর ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম রবিউল ইসলাম।
অন্যদিকে সবুজবাগের আহমদবাগ এলাকার ৩৩/ডি নম্বর বাড়ি থেকে রাত ১টার দিকে সিমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সবুজবাগ থানার এসআই আরিফুর রহমান জানান, দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
![]()