রাজনৈতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জিয়া ও রাশেদের সময়কার বিএনপি এখন আর নেই, বিএনপি এখন কাপুরুষের দলে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা-১২ আসনের নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।
কাওরান বাজার এলাকায় এক পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, সারা দেশে পঞ্চাশটিরও বেশি স্থানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মা-বোনদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ‘মিনিভ্যান করে তুলে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, দলের ভেতরে থাকা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেই বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয় নিশ্চিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাদিক কায়েম জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের ওপর হামলার পরই ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছিল, যার ফলেই হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ না করলে কোনো রাজনৈতিক শক্তিরই জনগণের সমর্থন পাওয়ার অধিকার নেই।
গণভোট ইস্যুতে তারেক রহমানের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাদিক কায়েম। তার ভাষায়, “আমরা এখনো তারেক রহমানের বক্তব্যে গণভোটের পক্ষে স্পষ্ট কোনো ক্যাম্পেইন দেখছি না। তিনি জুলাইকে ধারণ করেন, না কি ফ্যাসিবাদী কাঠামো টিকিয়ে রাখতে চান এটা পরিষ্কার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ন্যায়ের পক্ষে যারা ক্যাম্পেইন করছে, তাদের ‘হাসিনার দালাল’ বলে চিহ্নিত করার প্রবণতা বিপজ্জনক, এবং এর মাধ্যমেই আলেম-ওলামা, ছাত্র ও ভিন্নমতাবলম্বীদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। এই গণভোটের মাধ্যমেই আগামী একশ বছরের বাংলাদেশের রাজনীতি বিনির্মাণ হবে।”
ঢাকা-১২ আসনে ইনসাফ আন্দোলনের প্রার্থী সাইদুর রহমান মিরনকে ব্যাপক ব্যবধানে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, কাওরান বাজারকে চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেটমুক্ত করতে হলে ইনসাফের প্রতিনিধিদেরই বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকারভিত্তিক শাসন’ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে রিকশাচালকের যোগ্য সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—রাজার ছেলে রাজা হবে, এই নীতি আর চলবে না।”
সভা শেষে তিনি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
![]()