নিউজ ডেস্কঃ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত গোলটেবিল ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ (শুক্রবার) আদালতে নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় পুলিশ।
রাত সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় শাহবাগ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মুনসুর।
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্তত ১৫ জনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
এই ১৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন) ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে মঞ্চ ৭১।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনের। অনুষ্ঠান শুরুর আগ মুহূর্তে দুপুর ১২টার দিকে ডিআরইউর মিলনায়তনে ঢুকে একদল লোক লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে ফেলেন এবং তাকে আওয়ামী ও ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর সেখানে পুলিশ আসে এবং লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল-মতের হিসাবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাকে ডাকা হয়েছে; তাই এসেছি। আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী এসেছেন। কামাল হোসেন আসেননি। ২০ থেকে ২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে আমাদের ঘিরে ফেলে।’
এদিকে ডিআরইউর হট্টগোল নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ফেসবুক লাইভে সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) মঞ্চ ৭১-এর যে গোলটেবিল আলোচনার কথা ছিল, সেখানে সমন্বয়ক নামধারী কিছু দুষ্কৃতকারী হট্টগোল করছে, স্লোগান দিচ্ছে। আমরা বুঝি, এটা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের দাপটেই। এই দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটুকু আছে, সাংবাদিকদের অফিসে (রিপোর্টার্স ইউনিটি) বসেই গ্যাঞ্জাম। এ থেকেই বোঝা যায়, দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটুকু আছে। তিনি একাত্তরের স্বাধীনতা, বাহাত্তরের সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করতে রাজি না বলে মন্তব্য করেন।’
![]()