• রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

শিবির ক্যাডারের নিয়ন্ত্রণে

কথায় কথায় গুলি করতেন ছোট সাজ্জাদ

admin
আপডেটঃ : সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

★ নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামের পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ১৫ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকার তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রোববার (১৬ মার্চ) ভোর রাতে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। দুপুরে সিএমপি কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে হাজির করা হয়। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাদকে গ্রেফতারের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

এদিকে সাজ্জাদকে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার স্ত্রী পরিচয় দেয়া এক নারী ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, সাজ্জাদ বীরের বেশে জেল থেকে বের হয়ে আসবে। তাকে ছাড়িয়ে আনতে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করা হবে।

এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৬ মার্চ) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, চান্দগাঁও থানার একটি হত্যা মামলায় সাজ্জাদকে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সিএমপির ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হবে। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসিকে নগ্ন করে পেটানোর হুমকি দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন সাজ্জাদ।

ছোট সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১৫টি মামলা আছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুরের বাসিন্দা সাজ্জাদের বাবার নাম জামাল উদ্দিন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা-পুলিশ অস্ত্রসহ ছোট সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে। পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। একই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাজ্জাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাকে গ্রেফতারে জোর তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।

নগরীতে একের পর এক সন্ত্রাসী তৎপরতায় আলোচনায় ছিল সাজ্জাদ। কথায় কথায় গুলি করতেন সাজ্জাদ। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার কালারপোল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা না পেয়ে গুলি করেন সাজ্জাদ। ওই ঘটনার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এরপর ৪ ডিসেম্বর নগরীর অক্সিজেন এলাকায় সাজ্জাদকে পুলিশ ধরতে গেলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান তিনি। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তার ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেখান থেকে সটকে পড়েন সাজ্জাদ।

গত ২৮ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসিকে হুমকি দেন। এসময় সাজ্জাদ বলেন, ওসি আরিফ দেশের যেখানেই থাকুক না কেন, তাকে আমি ধরে ন্যাংটা করে পেটাব।

ওসি আরিফ থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে আমার সন্তানকে হত্যা করেছে। আমার স্ত্রীকে আটক করে জেলে নিয়ে গেছে। তাকে আমি ছাড়ব না। পুলিশ না হলে তাকে আমি অনেক আগেই মারধর করতাম। পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা করি বলেই চুপ করে আছি। হুমকির পর ওসি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

গত বছরের ২৯ আগস্ট নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার (৩২) ও মোহাম্মদ আনিস (৩৮) নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দের জেরে তাদের খুনের অভিযোগ রয়েছে। ডাবল মার্ডারের ঘটনার দুই মামলায় সাজ্জাদ প্রধান আসামি। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরের চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া জাগরনী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে মাইক্রোবাস থেকে নেমেই স্থানীয় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে (২৭) গুলি করে হত্যা করে সাজ্জাদ বাহিনী।

হাটহাজারী, বায়েজিদ বোস্তামি, চান্দগাঁও এবং পাঁচলাইশ এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে ‘বুড়ির নাতি’ হিসাবে পরিচিত। সবশেষ গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেফতার করলেও পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

গত ৫ ডিসেম্বর নগরের অক্সিজেন মোড় জালালাবাদ পেট্রোল পাম্পের পেছনে সাততলা ভবনের পঞ্চম তলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। তাদের উপস্থিতি টের পেয়েই গুলি চালান সাজ্জাদ। গুলিতে পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে সাজ্জাদ পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারীকে আটক করা হয়।

যা বললেন সিএমপি কমিশনার

রোববার (১৬ মার্চ ) দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বুড়ির নাতি হিসাবে পরিচিত ছোট সাজ্জাদকে বহুদিন ধরে খুঁজছি। সে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। ডাবল মার্ডার সহ অনেক মামলার আসামী সাজ্জাদ। জড়িত ছিল ঝুট ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সাথে। দুবাই প্রবাসী সাজ্জাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে গেছে। সে এতই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী একবার পুলিশ ধরতে গেলে পাঁচ তলা ভবন থেকে আরেক ভবনের ছাদে লাফ দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। সে লাইভে এসে বায়েজিদের ওসিকে লাঞ্ছিত করার হুঁশিয়ারি দেয়। এরপর আমি তাকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলাম। শনিবার রাত ৮টার দিকে খবর পাওয়া যায় বসন্ধুরা শপিং মলে স্ত্রীকে নিয়ে শপিং করছে। পরে পুলিশের টিম তাকে গিয়ে গ্রেফতার করে। তাকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সাজ্জাদকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ