• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৫ দিনের রিমান্ডে

admin
আপডেটঃ : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার আইনের মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচারের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় ডিবি পুলিশ। সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে রাজধানীর পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি মানব পাচারের অভিযোগে দায়ের করা। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর তিনটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

ডিবির তথ্য মতে, রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর কথিত দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো। তৎকালীন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল হন) মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জেনারেল মাসুদই কার্যত সেই প্রভাবশালী কমিটি (গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি) পরিচালনা করতেন, যার নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ অনেক ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়। মইন-ফখরুদ্দিন সরকারের দেড় বছরের মাথায় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালের জুনে লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ