বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরল এক সামনাসামনি সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুরুতেই তিনি বললেন, ‘আমি বেঁচে আছি — আর তোমরা সবাই সাক্ষী।’
৮ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এই গুজব অনলাইনে ভাইরাল হয়েছিল। গুজব আরও ছড়িয়েছিল কারণ রোববারের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভিডিও কলে যোগ দেন এবং অবস্থান প্রকাশ করেননি।
এরপর তিনি এক্স-এ ভিডিও পোস্ট করলে নতুন বিতর্ক জন্ম নেয়। কম মানের ভিডিওতে হাতে ছয়টি আঙুল আছে বলে দাবি করে অনেকে বলেন ভিডিওটি এআই-নির্মিত। মৃত্যুর গুজব থামাতে পরে জেরুজালেমের উপকণ্ঠে একটি ক্যাফেতে কফি খাওয়ার ভিডিও দেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিও নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয় — ক্যামেরায় ধরা পড়া কফি বারিস্তার উষ্ণ হাসিই ভাইরাল হয়ে যায়।
মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন গত বুধবার একটি সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের মুখে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘না, নেতানিয়াহু মারা যাননি।’
তবে বৃহস্পতিবারের এই সংবাদ সম্মেলন শুধু বেঁচে থাকার প্রমাণ দেওয়ার জন্য ছিল না। মার্কিন মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন আন্দোলনের কিছু অংশের সমালোচনার জবাব দেওয়াটাও ছিল উদ্দেশ্য। সেখান থেকে অভিযোগ উঠছে, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে অন্তহীন যুদ্ধে টেনে এনেছে। মার্কিন জনমতও এই যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ঘুরছে।
মঙ্গলবার একজন সিনিয়র মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইসরাইলি কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে টেনেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘কেউ কি সত্যিই মনে করে কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলতে পারে কী করবেন? আসুন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত নেন — যা আমেরিকার জন্য ভালো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ভালো বলে মনে করেন।’
![]()