• রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

ভারতকে শক্তিশালী হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

admin
আপডেটঃ : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ জানিয়েছেন,যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে দেবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে চায়, তবে চীনের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভারতকে উঠে আসতে দেবে না।

ল্যান্ডাউ আরও সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে কীভাবে দেখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ক্ষেত্রে দুই দশক আগে চীনের প্রতি যে নীতি অনুসরণ করেছিল, সেই ধরনের পদ্ধতি আর গ্রহণ করবে না।

ল্যান্ডাউ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতি বিষয়ক সম্মেলন ‘রাইসিনা ডায়ালগ’-এ বলেন, ভারতের বোঝা উচিত যে আমরা ২০ বছর আগে চীনের ক্ষেত্রে যে ভুল করেছিলাম, সেই একই ভুল আবার করবো না। যেমন—আমরা বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে, তোমাদের সব বাজার গড়ে তুলতে দিচ্ছি, আর পরে দেখলাম তোমরা অনেক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আমাদের হারিয়ে দিচ্ছ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আমেরিকানদের জন্য ন্যায্য হয়। শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজেদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, যেমন ভারতের সরকারকেও তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা “প্রায় শেষ পর্যায়ে” পৌঁছে গেছে।

ওয়াশিংটন মনে করে, ২০০১ সালে চীনকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-তে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল একটি কৌশলগত ভুল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাতে প্রভাব কমে গেছে। একটি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাংকের মতে, চীনা পণ্যের ব্যাপক আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ উৎপাদন খাতের চাকরি হারিয়ে গেছে।

কিছু নীতিনির্ধারক দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ও অ-বাজারভিত্তিক নীতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর ফলে বাজারে প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিনিময়ে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে চীন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে সক্ষম হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নানা ইস্যুতে বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। তবে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পূর্ণমাত্রার বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করে।

ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্য আলোচনায় তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে। এর মধ্যে ভারত, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশ ও জোটের সঙ্গেও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ