• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

দ্বিপাক্ষিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে ভারত-চীন

admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ বেইজিং ও নয়াদিল্লি ‌‌‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এছাড়া উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ মন্তব্য করেন জিনপিং।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্যকে নাড়িয়ে দেওয়া শুল্কযুদ্ধের মাঝে দুই এশীয় পরাশক্তির সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শি জিনপিংয়ের ওই মন্তব্য এসেছে।

গত এক বছরে চীন-ভারতের সম্পর্কে উন্নতি ও বিকাশ অব্যাহত রয়েছে এবং এটি বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষা এবং উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শি জিনপিংয়ের ওই সৌহার্দ্যপূর্ণ মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রায় চার বছর ধরে চলা উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের অধ্যায় পেরিয়ে বেইজিং ও নয়াদিল্লি তাদের সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে। ওই সংঘর্ষে ভারতীয় ২০ ও চীনা চার সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছিল।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীনা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট টিকটক নিষিদ্ধ এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে চীনা বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করে ভারত। এসব সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অব্যাহত ও বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

গত আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফর করেন। সেই সফরে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন; যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এর কয়েক দিন আগেই ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছর ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প শুল্কযুদ্ধ শুরু করেন। ভারত ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি করে। বর্তমানে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র; যা বিশ্বের সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্কের আওতায় থাকায় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। অন্যদিকে চীনা পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি শুল্ক বসিয়েছে ওয়াশিংটন।

২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই এশীয় পরাশক্তি সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। ভারত ও চীন ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য—এই জোটের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই ছিল মোদি ও শির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, শুভেচ্ছা বার্তায় শি জিনপিং চীন ও ভারতকে ‘একসঙ্গে নাচতে থাকা ড্রাগন ও হাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে সুস্থ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক এগিয়ে নেবে।

যদিও জটিল সীমান্তসংক্রান্ত ইস্যুগুলো এখনো সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। তারপরও উভয় দেশ সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গত অক্টোবরে পাঁচ বছর পর সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয় ভারত ও চীন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: রয়টার্স

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ