আদালত ডেস্ক রিপোর্টঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে দীন ইসলাম বেপারী হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ড শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলার সময় রিপন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের সময় ‘মব’ তৈরি করে পরিবারের সদস্যদের সামনে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিকালে রিপনের পক্ষ থেকে আইনজীবী ওবায়দুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন কামরুল হাসান রিপন।
নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমি শারীরিকভাবে খুব অসুস্থতা অনুভব করছি। আমার হার্টের সমস্যা রয়েছে। সরকার পতনের সময় আমি হাসপাতালেই ভর্তি ছিলাম। অসুস্থতার কারণেই আমি বাসায় অবস্থান করছিলাম।’’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্বচ্ছতা দাবি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘‘আমি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তুলতে পারেনি। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে গ্রেপ্তারের রাতের বর্ণনা দিয়ে রিপন বলেন, ‘‘বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আমাকে ‘মব’ করে আটক করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের সামনেই আমাকে মারধর করা হয়েছে।’’ এ সময় তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
এর আগে গত সোমবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা রিপনকে আটক করে। এ সময় তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মারধরে আহত হওয়ায় তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরদিন মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রাসেল সরদার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত সেদিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। আজকের শুনানি শেষে বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মহিন উদ্দিন।
দীন ইসলাম বেপারী হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন দুপুর দেড়টার দিকে ছাত্র-জনতা শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল বের করে। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চৌরাস্তায় পৌঁছালে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় দীন ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
![]()