রাজনৈতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ আলাদা মত থাকলেও একসঙ্গে আলাপ-আলোচনা, কথা বলাই গণতন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, উপস্থিত সবাই একরকম নন। সবার আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তারপরও সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করছেন, একে অপরের কথা শুনছেন। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ভাবছেন বলেই এই একত্র হওয়া সম্ভব হয়েছে। ভিন্নমত নিয়েই একসঙ্গে কথা বলা এবং শোনা-এটাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য। রোববার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী : নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এটাই দেশের মাটিতে জাইমা রহমানের প্রথম জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য। প্রথম বক্তব্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি, যা এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগযোগ প্ল্যাটফর্মসহ সব মহলে আলোচিত ইস্যু।
১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে দলের হাল ধরেন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তার ছেলে তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লষকদের অনেকে জাইমা রহমানকে বিএনপির পরবর্তী কান্ডারি হিসাবে মনে করেন। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সপরিবারে ঢাকায় আসেন জাইমা রহমান। পরবর্তী সময়ে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তিনি বক্তব্য দেননি।
নারী ক্ষমতায়িত হলে জাতির ভবিষ্যৎ বদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, যখন নারীদের দূরে না ঠেলে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা কেবল নিজেদের জীবনই বদলায় না; তারা তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও বদলে দেয়। বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের টেকসই উন্নয়ন চায়; তাহলে ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ কেবল শিক্ষা, অফিস বা নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, আমাদের ঘর, প্রতিষ্ঠান ও মানসিকতায়ও পৌঁছাতে হবে। আর এর দায়িত্ব আমাদের সবার।
তিনি বলেন, আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে। বাংলাদেশের এই পলিসি লেভেলে আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, নিজের ছোট্ট জায়গা থেকে সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।
জনপরিসরে দেওয়া তার প্রথম বক্তৃতায় উঠে এসেছে নারীর অগ্রযাত্রায় তার দাদা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা। জাইমা রহমান বলেন, নারীর মর্যাদা ব্যক্তিগত ও জনপরিসর, উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃত হওয়া উচিত; এই বিশ্বাস আমাদের পরিবারের বাইরেও আমার দাদা-দাদির জীবন ও নেতৃত্বে প্রতিফলিত হয়েছিল। আমার দাদা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জানতেন যে নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনোই পূর্ণ হতে পারে না। তিনি নারীদের ঘরে, কর্মক্ষেত্রে ও জনপরিসরে সক্ষম অবদানকারী হিসাবে দেখতেন। এই বিশ্বাসই একজন নেতা হিসাবে নেওয়া তার সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করেছিল। তার নেতৃত্বে পোশাক খাতের সম্প্রসারণের ফলে লাখ লাখ নারী প্রথমবার প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ পান, অর্জন করেন স্বাধীনতা ও আয়ের ক্ষমতা।
জাইমা রহমান আরও বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ও কাঠামো প্রয়োজন, এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকে একই সময়ে মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
এগুলো কেবল নীতিগত সিদ্ধান্তই ছিল না, বরং তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
জিয়াউর রহমানের মূল্যবোধকে খালেদা জিয়া এগিয়ে নিয়ে যান মন্তব্য করে তাদের দৌহিত্রী জাইমা বলেন, আমার দাদি বেগম খালেদা জিয়া, যিনি শিক্ষার মাধ্যম নারীর ক্ষমতায়ন এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনের গুরুত্ব বুঝেছিলেন। তার নেতৃত্বে নারী শিক্ষাকে সুযোগ নয়, অধিকার হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। বিনামূল্যের মাধ্যমিক শিক্ষা, পাশাপাশি ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ ও ‘নগদ অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি-এসব উদ্যোগ দেশের লাখো মেয়েকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনধারা বদলে দেয়।
![]()