রাজধানী ডেস্কঃ দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শুরুতে হতদরিদ্র পরিবারগুলো এই সুবিধা পাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ডের আওতায় আসবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ।
মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কারা আগে কার্ড পাবেন, সে বিষয়েও অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্রদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপর নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চবিত্তদেরও কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের মতো উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এই কার্ড পেতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
এই প্রসঙ্গেই ডা. জুবাইদা রহমানের উদাহরণ দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে কর্মসূচিটিকে শুধু দরিদ্র মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের বর্তমান পাইলট কর্মসূচি এবং প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি চার কোটি পরিবারের পরিকল্পনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ফ্যামিলি কার্ড ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পাইলট কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১৪টি ইউনিটের ১০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী ধাপগুলোতে সংখ্যা ১০ হাজার করে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে ৪০ হাজার পরিবারকে আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, কর্মসূচিটির বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা সমাজসেবা অধিদপ্তর। অর্থাৎ বর্তমানে চলমান পাইলট কার্যক্রমের কাঠামোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর পরিসর বড় করার পরিকল্পনার কথাই প্রতিমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারি সহায়তায় কোনো ঘাটতি বা ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বন্যার সময় ত্রাণসংকটের খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালী সফরে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছেন।
বাঁশখালীর অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। বাঁশখালীর আরও যেসব রাস্তা সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা দিলে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডকে পর্যায়ক্রমে সর্বজনীন করার একটি বৃহৎ পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। তবে বর্তমানে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য মূলত পাইলট কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে। চার কোটি পরিবারকে ঠিক কোন সময়সূচিতে, কী ধরনের সুবিধাসহ এবং কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—সেসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত সরকারি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশিত হলে কর্মসূচিটির চূড়ান্ত কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে।
![]()