• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ১৬৩৩ টাকা ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে ভারতের ওপরও জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ খুলনা জেলা বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক দবির শেখ, সদস্য সচিব আজগর শেখ পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু সীমান্তবর্তী শহর কুকুতায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী দুর্ব্যবহার নয়, মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের ৫ জেলায় আগাম বন্যার শঙ্কা

admin
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ বৈশাখের মাঝামাঝিতে এসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি ঝরছে। এ বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত বজায় রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার রাজধানীতে সকাল শুরু হয় বৃষ্টি দিয়ে। তবে কেবল ঢাকাই নয় দেশের বিভিন্ন স্থানেই সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা। বেলা ১২টার দিকে তিনি বলেন, ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজধানীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ মুহূর্তে বৃষ্টি ঝড়ছে।

দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকতে পারে।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি: গতকাল বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ১৬০ মিলিমিটার। এছাড়া, দ্বীপজেলা ভোলায় ১৫১, ফেনীতে ১৪৮, ময়মনসিংহে ১১৫, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১৪, কুমিল্লায় ১০৩, আমবাগানে ৯২, পটুয়াখালীতে ৯১ ও নেত্রকোণায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঢাকায় ভোর ৬টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘন্টায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও বুধবার ভোর থেকেই থেমে থেমে কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। আর, চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে শহর ডুবেছে। ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে; ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলি ও নারায়ণগঞ্জে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি আগামী ৪ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

চার নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে: পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বার্তায় বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টায় এসব অঞ্চলে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে নেত্রকোণা জেলার ভুগাই কংশ নদী প্রাকমৌসুমী বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমেশ্বরী নদী প্রাকমৌসুমী বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মগরা নদী প্রাকমৌসুমী বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলার মনু নদী প্রাকমৌসুমী বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়ে গেছে। আর আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’

বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে। সেজন্য দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত বজায় রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘সাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যে অব্যাহত থাকার কারণেই সতর্কতা সংকেত অব্যাহত রাখা হয়েছে।’

ডুবছে উত্তরের ৫ জেলার ফসল: টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে রংপুর বিভাগের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে ডুবে আছে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার পাকা বোরো ধান ও ভুট্টার খেত।

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলাসহ উত্তরের অন্তত ২৬টি নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমায় পৌঁছায়নি।

গত শনিবার দুপুর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পেকে যাওয়া ধান ও কাটার উপযোগী ভুট্টাও পানির নিচে চলে গেছে। যারা ফসল তুলেছেন তারাও রোদের অভাবে ঘরের ফসল শুকাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রংপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার থেকে প্রতিদিন বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশ প্রায় সারাক্ষণ মেঘলা থাকছে। কখনো টানা বর্ষণ, আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চি ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে। এ জন্য এসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ