• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি তেহরানের

admin
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরানে দ্বিতীয় রাতের মতো বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অতিরিক্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলার জন্য ইরানের যে সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, তা গুঁড়িয়ে দিতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, আগের দিন ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে যে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল, এটি তারই পাল্টা জবাব। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরান যদি আবারও জাহাজে হামলা চালায়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলা হবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ওয়াশিংটনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর সামরিক জবাব দেবে। ভ্যান্স সাফ জানান, আগের চুক্তি অনুযায়ী ইরান জাহাজে হামলা বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিত, কিন্তু ইরান সেই নিয়ম অমান্য করায় মার্কিন বাহিনী আরও তীব্রভাবে পাল্টা আঘাত হানবে।

এদিকে মার্কিন হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে অত্যন্ত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দক্ষিণ উপকূলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া সিরিক বন্দরে দুটি এবং জাস্ক বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় আরও দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলাবারুদ আঘাত হেনেছে।

তেহরান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বন্দর আব্বাস ও সিরিক ছাড়াও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিশ দ্বীপের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেখানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বন্দর চাবাহারে বিস্ফোরণের পাশাপাশি ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা আগের রাতের চেয়ে হামলার পরিধি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এই হামলার প্রেক্ষিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এবং খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক সদর দফতর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এই মার্কিন হামলাকে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

একই সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ