• মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

উগ্রবাদী নাশকতার আশঙ্কা

স্পর্শকাতর তথ্য পুলিশের হাতে

admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ উগ্রবাদী সংঠনের কাছে সেনাবাহিনী ও ক্যান্টনমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেছেন একজন সেনাসদস্য। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতকে এ তথ্য জানিয়েছেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান। উগ্র সংগঠনের মোস্ট ওয়ান্টেড সদস্য রাকিব হোসেন ওরফে ওবাইদা আল ওসামাকে গ্রেফতারের পর রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ওসি বিচারককে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেন।

জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র ও অন্যান্য স্পর্শকাতর অবকাঠামোতে উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কার একদিন পর ২৫ এপ্রিল রাকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুলিশের সহায়তায় ধামরাইয়ের নান্নার ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রাকিবকে ২৬ এপ্রিল কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে শিগগিরই রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আদালতে উপস্থাপন করা এ সংক্রান্ত ধামরাই থানার ওসির প্রতিবেদনটিও যুগান্তরের হাতে এসেছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে দেশের অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোতেও। এছাড়া মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে দেশের উগ্রবাদী প্রশিক্ষণ হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, সতর্কতা জারিসংক্রান্ত পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির সঙ্গে উগ্রবাদী সংগঠনের দুজন মোস্ট ওয়ান্টেড সদস্যের প্রোফাইল সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। এ দুজনের একজন হলেন রাকিব হাসান। অন্যজন মোহাম্মদ রাহেদ হোসেন মাহেদ। রাকিব গ্রেফতার হলেও মাহেদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো রাকিব হাসানের প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাবা একজন বাসচালক। মা গৃহিণী। গ্রামের বাড়ি ধামরাইয়ে হলেও রাকিব দীর্ঘদিন সেখানে থাকে না। সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বসুন্ধরাটেকে থাকে। রাকিবের বাবা আনোয়ার বাস চালানোর পাশাপাশি মাদক ব্যবসা করেন। মাদক সেবনও করেন। মাদক বিক্রির অভিযোগে তিনি এর আগে বেশ ককেবার গ্রেফতার হন।

মাহেদের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে। জন্ম ২০০৩ সালে। সে দাসগড় ইউএন হাই স্কুলে লেখাপড়া করেছে। বর্তমানে ব্যবসায় জড়িত।

রাকিবের বিষয়ে তদন্ত চলছে উল্লেখ করে ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়। আদলত তা মঞ্জুর করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে।

আদালতে পাঠানো পুলিশ ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়, রাকিব হোসেন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনা স্থাপনা, সেনাসদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বর) বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল। এছাড়া দেশীয় অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করে প্রাণহানি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করবে বলেও তার পরিকল্পনায় ছিল। ফেসবুকে ওবাইদা আল ওসামা নামে তার একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। এর মাধ্যমে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

মোহাম্মদ রাহেদ হোসেন মাহেদের বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহেদ দাওয়াতুল ইসলাম নামের এক উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ওই সংগঠনের মাধ্যমেই জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ আদালতকে জানায়, মাহেদের সঙ্গে চাকরিরত এক সেনাসদস্যের বন্ধুত্ব রয়েছে। ওই সেনাসদস্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনী এবং ক্যান্টনমেন্টের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে সে।

এদিকে সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি পাননি তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য : মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করছে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) নামের একটি সংগঠন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলোতে প্রকাশ্যে মার্শাল আর্ট শিখিয়ে নিজেদের প্রকৃত আত্মরক্ষা শেখানোর প্রতিষ্ঠান হিসাবে তুলে ধরলেও গোপনে চালায় জঙ্গি কার্যক্রম। বাছাইকৃত যুবকদের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে নিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটিটিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে ওইসব তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। সেগুলো যাচাই করে দেখছি। সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহদাৎ হোসাইন গণমাধ্যমে বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনের কতিপয় সদস্যের তৎপরতার কারণেই সারা দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে পুলিশ প্রস্তুত। আশা করছি, অপশক্তি সফল হতে পারবে না।

 

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ