• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে রাস্তায় নেমেছি: জামায়াত আমির

admin
আপডেটঃ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজনৈতিক ডেস্কঃ জনগণের দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। এ লড়াই ১৮ কোটি মানুষের জন্য। জনগণের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।’

শনিবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। এ দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব। এর মধ্যে কোনো বিরতি নেই, এই কাফেলা অবিরাম চলতেই থাকবে।’

সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা মানলেন না? ১ হাজার ৪০০ শহীদের সঙ্গে কেন বেইমানি করলেন? কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি? আপনারা বলেছিলেন, অনির্বাচিত কাউকে কোথাও বসাবেন না। কিন্তু আপনারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা একটি কথাও রাখেননি, সব জায়গায় ধোঁকা দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতি যা চেয়েছিল, তা আপনারা দিতে পারছেন না। আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন।’ গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এগুলো কি আপনারা পান?’ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিসহ সব ধরনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের জন্য ৮ দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১ দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। আগামীর লং মার্চ হবে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার দিকে, ইনশা আল্লাহ।’ মা-বোনেরা রাস্তায় নেমে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাবি আদায় হবে। আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। সংসদে সবকিছুর ফয়সালা হবে। কিন্তু সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করে দেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছে। জনগণকে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছে, প্রতারণা করেছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ ভাগ জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটা আমরা আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ। এর আগে আমরা থামব না। এ লড়াই চলবে। বাংলাদেশ বদলাবে।’

জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে।’

পথসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সামনে কঠিন সংগ্রাম। সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। আমরা টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর উত্তরসূরি। আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যে আওয়ামী লীগের দ্বারা সরকার, প্রশাসন চালাচ্ছেন, এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। আমাদের এক দফা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেবেন না।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আজকের এই লং মার্চ প্রমাণ করছে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে জানে জনগণ।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।

এনসিপির সরোয়ার তুষার বলেন, ‘আগের মতো খাম্বাগিরি চলবে না। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”; আসলে “দে হ্যাভ নো প্ল্যান”।’

শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। বিভিন্ন দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ