আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। ৪ জুলাই ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে ক্লিনটন সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে ‘ক্ষমতাসীনদের’ কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করা, মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা চলছে।
ক্লিনটনের আরও অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের নীতিতে সরকারি ব্যবস্থাকে নিজেদের এবং তাদের মিত্রদের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে অভিবাসন নীতি, বিদেশে সামরিক কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন।
তবে এসব বক্তব্যকে ক্লিনটনের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা জরুরি। তাঁর বিবৃতিতে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে আলাদা করে প্রমাণ বা বিস্তারিত নথি তুলে ধরা হয়নি। তাই তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
ক্লিনটন তাঁর বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন এবং দেশটির প্রতিষ্ঠান ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অতীতের বিভিন্ন সংকটের মতো বর্তমান সমস্যাগুলোও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও জনগণের ভূমিকার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব।
ক্লিনটনের বক্তব্য প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ, অভিবাসন নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছিল। সাম্প্রতিক সময়েও প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যেমন, সেপ্টেম্বর মাসে একটি ফেডারেল আপিল আদালত কয়েকটি সরকারি সংস্থা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশাসনের যুক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।
একই সময়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরোধও আইনি পর্যায়ে গড়িয়েছে। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলো মামলা করেছে এবং তারা প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।
ফলে বিল ক্লিনটনের ৪ জুলাইয়ের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখা যায়। তাঁর অভিযোগগুলোর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব ব্যাখ্যাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ক্লিনটনের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ।
![]()