অপরাধ ডেস্ক রিপোর্টঃ নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ-মাসদাইর এলাকার বোয়ালিয়া খাল সংলগ্ন লিচুবাগে মাদক কারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন র্যাব-১১-এর তিন সদস্য। চাপাতি ও রামদা নিয়ে অতর্কিত হামলায় আহত তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া খাল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। ওই দিন দুপুরে র্যাব-১১-এর একটি গোয়েন্দা দল সাদা পোশাকে মাদক কারবারিদের অবস্থান ও তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে এলাকায় প্রবেশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল চাপাতি, রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র্যাব সদস্যদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়।
আহতরা হলেন র্যাব সদস্য নজিবুল, মাহি ও ইব্রাহিম। স্থানীয় লোকজন ও অন্য র্যাব সদস্যরা আহতদের প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যান। নজিবুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। একজনের মাথা ও হাতে গুরুতর ক্ষত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
র্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদ ও মাসুদ ওরফে বুইট্টা মাসুদের সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন যুবককে চাপাতি ও রামদা নিয়ে হামলা চালাতে দেখা যায়, যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মাহবুব জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।
র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। র্যাবের ওপর হামলা করে কেউ পার পাবে না। মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র্যাবের অবস্থান জিরো টলারেন্স। জনগণের নিরাপত্তায় র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময়ের সাধারণ চলাচলের জায়গাটি ধীরে ধীরে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ এলাকাটি এড়িয়ে চলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, ‘প্রতিদিন এখানে মাদকের আড্ডা বসে। মাঝেমধ্যে মারামারি হয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।’
![]()