ডেস্ক রিপোর্টঃ ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম চালান বিক্রি সম্পন্ন করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ভেজুয়েলার তেলের প্রথম চালান বিক্রি সম্পন্ন করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহের মধ্যে আরো বেশ কিছু বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই দেশটির জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার বিধ্বস্ত তেল শিল্প পুনর্গঠনে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। যদিও এই বিশাল অঙ্কের অর্থের উৎস বা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
প্রেসিডেন্টের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জায়ান্ট কোম্পানি এক্সন মবিল-এর সিইও ড্যারেন উডস। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগের অযোগ্য। সেখানে আইনগত এবং বাণিজ্যিক কাঠামোর কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিনিয়োগ করলে কী ধরনের রিটার্ন আসবে, তা বোঝার মতো কোনো কাঠামোই সেখানে বিদ্যমান নেই।
বৈঠকে উপস্থিত অন্য নির্বাহীরাও দেশটিতে ব্যবসা করার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে ভেনেজুয়েলায় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়াই বেরিয়ে যান ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দল এমন কিছু তেল কোম্পানির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যারা ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো মেরামতে বড় অংকের বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক।
অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বর্তমানে অন্যান্য দেশের (যেমন- কানাডা) তুলনায় কিছুটা কম মূল্যে বা ‘ডিসকাউন্টে’ অফার করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই তেলের বিক্রয়লব্ধ অর্থ ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হবে।
![]()