ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় ছাড় পাওয়া শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। কারণ, ছেড়ে দেওয়া ১৪টি আসনের একাধিকটিতে বিএনপির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এতে শরিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হলেও তারা বিষয়টিকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমনে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে শুরুতে বিএনপির টানাপোড়েন দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত ১৪টি আসন ছাড় দেয় দলটি। সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশকে চারটি, গণতন্ত্র মঞ্চকে তিনটি, জাতীয় সমমনা জোটকে একটি এবং গণঅধিকার পরিষদকে একটি আসন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া কৌশলগত কারণে কয়েকজন নেতা নিজ নিজ দল বিলুপ্ত বা সংগঠন ছেড়ে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস।
তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরও সমঝোতার আসনগুলোতে বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও রয়েছেন। এ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনায় দল থেকে ৯ জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম (নীরব), কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, আবদুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পরও শরিক দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবুও নির্বাচনি মাঠে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন না শরিক দলের নেতারা।
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির ছাড় পাওয়া প্রার্থী ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তার আসনে বিএনপির সাবেক মনোনীত প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে থাকায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সমঝোতা ভেঙে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য বিব্রতকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক নুর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও সেটিকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন না বলে জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সমঝোতার আসনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শরিক দলের আসনে বিদ্রোহীদের ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ত্যাগ স্বীকার ও সহনশীল হতে হবে।
![]()