ভারতের সীমান্তঘেঁষা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি সহিংস আকার ধারণ করলে দেশটিতে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মসজিদে হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নামেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ওই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে ভারতের বিহারের রক্সৌল সীমান্তসংলগ্ন বীরগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করা হয়।
নেপালের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দেয় ভারত।
কীভাবে শুরু উত্তেজনা
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের ধানুশা জেলার কামালা পৌরসভায় হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামের দুই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি দ্রুত ধানুশা ও পারসা জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সূত্রপাত করে।
পরে স্থানীয়রা ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই কামালার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন অভিযোগ করে, তাদের দেবদেবীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন এবং একটি থানায় ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় অর্ধডজন কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে বীরগঞ্জে কারফিউ জারি রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বন্ধ ভারত-নেপাল সীমান্ত
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ভারত-নেপাল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে।
ভারত ও নেপালকে সংযুক্ত করা মৈত্রী সেতুতে বিশেষ নজরদারি বসানো হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রমকারীদের কড়াভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে। সহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পান্তোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়া এলাকাতেও টহল বাড়ানো হয়েছে।
নেপাল ছাড়ছেন ভারতীয় শ্রমিকরা
পরিস্থিতির অবনতিতে নেপালে কর্মরত বহু ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। বীরগঞ্জে কর্মরত ভারতীয় নাগরিক রাকেশ এনডিটিভিকে বলেন, শহরের সব দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকার কোনও অর্থ নেই। সূত্র: এনডিটিভি।
![]()