নিউজ ডেস্কঃ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আস্থাহীনতা ও পারস্পরিক সন্দেহ যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরকে গ্রাস করে ফেলেছে, তখন এমন একটি সময়েই মুখোমুখি বসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে শনিবার (২৪ মে) সন্ধ্যার এই বৈঠকটিকে শুধু রাজনৈতিক নয়, এটিই দেখা হচ্ছে হতে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার সূচনা হিসেবে।
বৈঠকের পর বিএনপি নেতারা স্পষ্ট করেই জানান, সরকার ও তাদের মধ্যে ‘সংস্কার’ ও ‘জুলাই অভ্যুত্থানে দোষীদের বিচার’ ও নির্বাচন বিষয়ে—গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তা রা একমত হয়েছে। ‘সংস্কার’ ও ‘জুলাই অভ্যুত্থানে দোষীদের বিচার’ ইস্যুতে তারা দুপক্ষই সম্মতি দিয়েছে। তবে নির্বাচনের বিষয়ে সরকার তাদের অবস্থান পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
বিএনপি মনে করে, একটি গ্রহণযোগ্য ও ভবিষ্যৎমুখী নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো প্রশাসনিক কাঠামোর রদবদল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং যারা অতীতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। কিন্তু ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংষ্কার, ফ্যাসিস্টের বিচার ও নির্বাচন বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি। বিএনপির ভাষায়, ‘সরকার শুনেছে, কিন্তু বলছে পরে জানাবে।’
বিএনপির ভাষ্যমতে, বৈঠকের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকার সরাসরি কিছু বলেনি। কিন্তু বিএনপি সবচেয়ে বেশি সবর নির্বাচন নিয়ে। যদিও বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছিল, তবে ড. ইউনূস বা তার প্রতিনিধি কেউই নির্বাচনের বিষয়ে কিছু বলেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার যখন এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরবে, তখন তারা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। অর্থাৎ এখনই তারা বৈঠকের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাচ্ছেন না।
ড. ইউনূসের সরকারের সামনে এখন কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, রয়েছে আস্থার সঙ্কট মেটানোরও চ্যালেঞ্জ। আর বিএনপির সামনে রয়েছে—সহযোগিতার রাস্তায় থাকলেও আত্মসমর্পণ না করার কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার পরীক্ষা। আগামীকালের সর্ব দলীয় বৈঠকেই হয়তো জানা যাবে—এই সংলাপ কোনো নতুন পথে যাচ্ছে, না পুরনো দ্বন্দ্বের আবর্তেই আটকে থাকার পরিবেশকে বজায় রাখবে।
![]()