অনলাইন ডেস্কঃ মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তে দলের ভেতর ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি নিজ দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। এটিকে ‘ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে সমালোচনা করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য মিশিগানের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার অধিকাংশ জনমত জরিপে এল-সাইয়েদকে রজার্সের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এমন সময় দলের ভেতর নজিরবিহীন কোন্দলের ঘটনা ঘটলো। হ্যালি স্টিভেন্স এই আসনে দলীয় প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে (প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া) তিনি সাইয়েদের কাছে হেরে যান।
জাতীয় পর্যায়ে ক্রমেই পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের মিত্রতার কড়া সমালোচক। তেল আবিবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন।
হ্যালির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এল-সাইয়েদ বলেন, ‘এতে আমি বিচলিত নই। দিন শেষে আসলে হ্যালিকে নিয়ে ভাবছি না। আমি ভাবছি বাকি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন মানুষকে নিয়ে, যারা ওই দুজন নন।’ ওই দুজন বলতে তিনি হ্যালি ও রজার্সকে ইঙ্গিত করেন। পরে বলেন, ‘পুরো বিষয়টির রাজনীতির চেয়ে নীতিগত দিক নিয়েই আমি বেশি আগ্রহী।’
রোববার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রজার্সকে সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করেন হ্যালি। তিনি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ও নতুন উদ্যম পেয়েছি। আমার হৃদয় যা বলছে, সেটিই করেছি।’ তবে তিনি চান সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাক।
হ্যালির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন সিনেটে সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে, মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের কৃষ্ণাঙ্গ ককাসের চেয়ারম্যান ভার্জি রলিন্স বলেন, হ্যালি নিজেকে দলত্যাগী হিসেবে প্রকাশ করে নিজের পথ হারিয়েছেন।
নিজ দলে সমালোচিত হলেও হ্যালির প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যালি এমন কথা বলেছেন, যা বলার সাহস খুব কম মানুষেরই আছে।’
![]()