আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ নেপালে হড়পা বানে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্বিত করেছে সে দেশের পুলিশ। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এখন পর্যন্ত ৩৪১ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো জানা যায়িনি।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার ফলে নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ-পাথরের ধস নামে এবং এর কারণেই হড়পা বান দেখা দেয়। নদীটি নেপাল ও তিব্বত উভয়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। নদীটি তিব্বতের জিরং কাউন্টি থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে নেপালে ত্রিশূলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, এ ঘটনার প্রায় ৭ মিনিট আগে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই সময়ের একটি ফুটেজে লোকজনকে সীমান্ত ছেড়ে পালাতে দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির সংসদকে বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের ফলে বরফ-ধস নেমে বন্যা হতে পারে।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ধসটি নেপালের দিকে ঘটে এবং তিব্বতের শিগাতসে শহরের জিরং বন্দরে আঘাত হানে, যার ফলে সীমান্তের কাছের শিগাতসে অঞ্চলে সড়ক, যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ তিব্বতের জিরং স্থলসীমান্ত ক্রসিংয়ে অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকারী পাঠিয়েছে।
এর আগে, একজন উদ্ধারকারী সিসিটিভিকে জানিয়েছিলেন যে, দেড় মিটার (৫ ফুট) গভীর পলি জমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দলটির ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অন্তত চার ঘণ্টা সময় লাগবে। উদ্ধারকারী জানান, ক্রসিংটির নেপালি দিক থেকে ধ্বংসাবশেষ উজানে উঠে এসেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের জন্য ‘সর্বাত্মক’ অনুসন্ধান প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগ প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বলেছেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সজাগ থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
![]()