• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

বড় কোম্পানির কর ফাঁকি পর্যালোচনায় সরকার : অর্থমন্ত্রী

admin
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির অতিরিক্ত খরচসহ ‘ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের’ মধ্যে রয়েছে। তাই কর ফাঁকি রোধে বড় কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারের তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পগ্রুপগুলোর কর ফাঁকির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যে তদন্ত শুরু করেছিল, তা পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, তার অগ্রগতি জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। বর্তমান সরকার নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সব কিছুই আলোচনা হয়েছে। এটা খালি একটা বিষয় নিয়ে না। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে। সব কিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

২০২৪ সালের আগস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বেক্সিমকো, সামিট, এস আলমসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের কর ফাঁকির তদন্ত শুরু করেছিল। সে সময়ে কিছু করও আদায় করা হয়েছিল।

বাজেট প্রণয়ন ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে অর্থনীতি গ্রহণ করেছি, তা খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে। জনগণের কাছে নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে দেওয়া কমিটমেন্টগুলো বাস্তবায়নের জন্য রিসোর্স মোবিলাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইকোনমি উদ্ধার এবং মেনিফেস্টো বাস্তবায়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি কেনার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এই তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা কীভাবে রিসোর্স মোবিলাইজেশন করতে পারি, তা আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো রিভিউ এবং ফাইন-টিউনিং করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।’ এলডিসি উত্তরণ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি বর্তমানে ইকোসকে (জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ) পাঠানো হবে এবং জেনারেল অ্যাসেমব্লিতে পাস হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ফলাফল নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ কিছু বলা যাবে না।’

অর্থমন্ত্রী কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দিকে যাত্রার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। নীতিমালা স্থিতিশীল রাখতে হবে যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ধরে রাখতে পারে।’ বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এবং আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ