খেলা ডেস্ক রিপোর্টঃ আশা জাগানো শুরু, কিন্তু শেষটা ঢেকে গেল নিঃশব্দ হতাশায়! আক্রমণের পর আক্রমণ সাজিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। সিঙ্গাপুরের মাঠে ম্যাচজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ফলাফলের নিরিখে আবারও পিছিয়ে পড়ল লাল-সবুজের দল। ০-১ গোলে হার নিয়েই ফিরতে হলো হাভিয়ের কাবরেরার দলকে।
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে গতকাল সিঙ্গাপুরের মাঠে নিজেদের উজাড় করে খেলেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ছন্দে থাকার চেষ্টা, মাঝমাঠে দখল নেওয়া, উইং দিয়ে আক্রমণ, সবই ছিল পরিকল্পনায়। তবু ফুটবলের চিরন্তন সত্য, গোলই শেষ কথা-সেই জায়গাতেই ব্যর্থতা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই নির্ধারিত হয়ে যায় ভাগ্য। ৩১ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায়। ইখসান ফান্দির পাস কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন হারিস স্টুয়ার্ট। সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের একমাত্র পার্থক্য গড়ে দেয়।
তবে এর আগে বাংলাদেশই এগিয়ে যেতে পারত। ১৪ মিনিটে শমিত সোমের হেড লক্ষ্যে থাকেনি। কিছুক্ষণ পর বক্সের ভেতরে ফাউলের অভিযোগ উঠলেও রেফারির নীরবতা বাংলাদেশের হতাশা বাড়ায়। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার খেসারতই যেন দিতে হয় পরে।
বিরতির পর দৃশ্যপট বদলে যায়। পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণে সিঙ্গাপুরের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা একাধিক পরিবর্তন এনে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। মাঠে নামেন শাহরিয়ার ইমন, বিশ্বনাথ ঘোষ, মিরাজুল ইসলামরা-লক্ষ্য একটাই, সমতায় ফেরা।
চাপের মুখে কিছুটা অস্থির হয়ে ওঠে স্বাগতিকরাও। তবে ভাগ্য সেদিন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। ৭৯ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ। হামজা চৌধুরীর নিখুঁত ক্রস থেকে মিরাজুলের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তেই যেন ভেঙে যায় সমতার স্বপ্ন।
শেষদিকে আরও কিছু চেষ্টা ছিল-শমিত সোমের শট, বক্সের ভিড়ে কয়েকটি সুযোগ-কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। যোগ করা সময়েও বদলায়নি চিত্র। শেষ বাঁশির সঙ্গে নিশ্চিত হয় ০-১ ব্যবধানে হার।
এর আগে ঢাকার ম্যাচেও হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই লেগেই পরাজয় নিয়ে শেষ হলো বাছাইপর্ব। ‘সি’ গ্রুপে ছয় ম্যাচে এক জয়, দুই ড্র ও তিন হারে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানেই শেষ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে গ্রুপের শীর্ষে থেকে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে সিঙ্গাপুর।
গ্যালারিতে প্রবাসী সমর্থকদের উৎসাহ, মাঠে খেলোয়াড়দের লড়াই-সব মিলিয়ে চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিনিশিংয়ের অভাবই হয়ে দাঁড়াল সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। বাছাইয়ের শেষটা তাই রঙিন হলো না, রয়ে গেল অপূর্ণতার গল্প হয়ে!
![]()