দুর্ঘটনা ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩নং ফেরি ঘাটে সৌহাদ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। এ বাসে অর্ধশতাধিক যাত্রী রয়েছে। এতে ২ নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১১জনকে।
উদ্ধার কাজ শুরু করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও মানিকগঞ্জের ডুবুরী দলসহ অন্যান্যরা। ঢাকা থেকে রওনা হয়েছে ডুবুরী দল। সময় যত যাচ্ছে নদী পাড়ে বাড়ছে স্বজনদের আহাজারী।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাসটি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে রাত ৮টার দিক থেকে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির ফলে উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে এ দুঘর্টনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দৌলতদিয়া ৩নং ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বাসে অর্ধ শতাধিক যাত্রী ছিল। কয়েকজন যাত্রী সাতরিয়ে নদী পাড়ে উঠলেও বেশির ভাগ যাত্রীদের সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয়রা ফেরি ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ সম্রাট বলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠতে গেলে হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ৫-৬জন যাত্রী সাতরিয়ে নদীর কুলে আসলেও অন্যান্যদের পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।
ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন-অর রশীদ, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ২.১০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ছাড়ে। বাসে আমি, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে বাসে ঢাকার সাভার যাচ্ছিলাম। সবাই বেঁচে গেলেও মেয়ে বাসের মধ্যে রয়েছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোঃ সোহেল রানা বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও মানিকগঞ্জের ডুবুরী দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাসটি সনাক্ত হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে ঝড় ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
গোয়ালন্দ হাসপাতালের আরএমও শরীফুল ইসলাম বলেন, রুপচাঁদ, মর্জিনা ও রেহেনা নামে ৩জন হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে মর্জিনা ও রেহেনা নামে ২জন নারী নিহত হয়েছেন।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দুজনের মরদেহ পেয়েছি। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটের বাস দূর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তির জন্য জেলা প্রশাসন রাজবাড়ীর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭৩৩৩৩৬৪০৯।
![]()