অপরাধ অনুসন্ধানে ডেস্ক রিপোর্টঃ সাভারের হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চল এখন অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও জুয়ার বোর্ডের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জন্য এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, জয়নাবাড়ি সড়ক, মাদু মার্কেট ওভারব্রিজের সিঁড়ি, হাজী আশরাফ কমপ্লেক্স, মোল্লা মার্কেট, মাওলানা মার্কেট, মক্কা টাওয়ার, ভোলাই চাঁন ও প্রাইম ব্যাংকের সামনের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ও অবৈধ পার্কিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে,এসব কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান। মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাদ্দাম হোসেন ও পূর্বে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মুকুল।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাসস্ট্যান্ড ও মার্কেট এলাকায় প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। ওভারব্রিজের সিঁড়িতে বসা ছোট দোকানগুলো থেকেও আদায় করা হয় ২০০ টাকা করে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়কের বাম পাশের কয়েকজন মহাজন ও অস্থায়ী ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন তাদের কাছ থেকেও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে দোকান বসতে দেওয়া হয় না, এমনকি পণ্য সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া মক্কা টাওয়ার ও প্রাইম ব্যাংকের সামনে প্রকাশ্যে জুয়ার বোর্ড বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিক, দিনমজুর, সিএনজি ও অটোরিকশাচালকরা সেখানে অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার বোর্ড থেকে আদায়কৃত অর্থ প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে যায়।
এক ব্যবসায়ী রমজানকে চাঁদা দাবির জেরে গুলি করার অভিযোগও উঠেছে বিএনপি নেতা মেহেদী হাসানের সহোদর মোশাররফ হোসেন মুশার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক ঘণ্টা পরই আগের চিত্র ফিরে আসে। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারার কারণেই স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে তাদের অভিযোগ।
![]()