• শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

রোজা মানুষকে নিষ্পাপ বানায়

admin
আপডেটঃ : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইসলাম ডেস্ক রিপোর্টঃ রমজানের রোজা ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক ইবাদত এবং ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম। কোরআন ও হাদিসে রমজানের রোজার বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। রোজাদারদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে মহা পুরস্কার। এ মাসে সঠিকভাবে রোজা পালন করলে অতীতের গুনাহ মাফের সুসংবাদ দিয়েছেন প্রিয়নবী (সা.)।

আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়” (সহিহ বুখারি-৩৮)।

গুনাহ মাফের এই সুবর্ণ সুযোগ মানুষকে পাপমুক্ত ও নিষ্পাপ জীবনে ফিরে আসার প্রেরণা জোগায়। তাই রোজার পরিপূর্ণ হক আদায় করে এই সুযোগ গ্রহণ করা জরুরি। রোজা শুধু অতীতের গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং ভবিষ্যতের গুনাহ থেকেও মানুষকে রক্ষা করে।

আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, “রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং অশ্লীল আচরণ করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ রোজাদারের সঙ্গে ঝগড়া করতে চায় বা গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে- আমি সওম পালন করছি” (সহিহ বুখারি-১৮৯৪)।

ঢাল যেমন আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা মানুষকে পাপ ও অন্যায় কাজ থেকে রক্ষা করে। ফলে রোজাদার ধীরে ধীরে সংযমী ও নিষ্পাপ চরিত্রে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। রমজান মাসে মানুষের মন সাধারণত কোমল ও আল্লাহমুখী থাকে। তাই রোজা পালন করলে অনেক গুনাহ থেকে সহজেই বেঁচে থাকা যায়। রোজা কেবল খাদ্য ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি সব ধরনের পাপাচার থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়।

এ প্রসঙ্গে রসুল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার শুধু না খেয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই” (সহিহ বুখারি-১৯০৩)।

পরিশেষে বলা যায়, রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, চরিত্রকে উন্নত করে এবং পাপ থেকে রক্ষা করে। সংযম, তাকওয়া ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোজা মানুষকে নিষ্পাপ করে তোলে। রোজা আত্মাকে আলোকিত করে এবং মানুষকে পবিত্র জীবনের দিকে ধাবিত করে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ