• বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ারবাজারের নেতৃত্ব যাচ্ছে কার হাতে

admin
আপডেটঃ : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক রিপোর্টঃ আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনামলে দেশের শেয়ারবাজার খাদের কিনারায় পৌঁছে যায়। কালো যুগের অবসান হওয়ায় ক্ষুদ্র বিনয়োগকারী থেকে বাজার অংশীজন- সর্বস্তরে ব্যাপক আওয়াজ ওঠে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে দেশের শেয়ারবাজার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও তা ফিকে হতে বেশি সময় নেয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি বাজারে আস্থা ফেরাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় তাও অনেকটা শেষ পর্যন্ত লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে পড়ে। ফলে সংস্কারের ফাঁকা আওয়াজে পুরো দেড়টা বছরে শেয়ারবাজার আরও বেশি তলানিতে নেমে যায়।

নবনির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারের উন্নয়নে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছে বাজারসংশ্লিষ্ট সর্বমহল। প্রায় সবস্তর থেকেই আওয়াজ উঠছে, বাজার সংস্কারের আগেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার বেশি জরুরি। সংস্থার নেতৃত্বে যোগ্য ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব চান তারা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো সংকটকালে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে শেয়ারবাজার সম্পর্কে গভীর ও ব্যবহারিক জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তির নিয়োগ চান অনেকে। তবে, এক্ষেত্রে স্বার্থসংঘাত থাকবে কি না এবং বাজারসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব কি না- তা সতর্কভাবে যাচাই করে নিয়োগ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশেকুর রহমান বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তন হতে পারে, এটি অস্বাভাবিক কিছুই নয়। তবে, পরিবর্তন হলে অবশ্যই মার্কেটে দীর্ঘবছরের যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া ভালো হবে। আমরা অনেক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বে দেখে এসেছি, আলটিমেটলি তাতে মার্কেটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এবার যদি বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটি আশা করি খারাপ হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই নীতি-নির্ধারকদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে কাউকে যদি নিয়োগ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন আসবে কি না, সেটি বিশ্লেষণ করে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

কেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুনর্গঠনের আলোচনা: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বে আসা ব্যক্তিরা নানা বিতর্ক, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি তৈরি করেছিলেন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া জিয়াউল হক খন্দকারের সময়ে বাজারে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ বিতরণ, শর্ত উপেক্ষা করে রাইটস শেয়ার ও সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের অনুমোদনের মতো নানা অনিয়ম ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে নিয়োগ পওয়া দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সময়ে বিতর্ক, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

২০১১ সালে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের সময়ে বহু কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও পরে সেগুলো ‘জাঙ্ক’ শেয়ারে পরিণত হয়। রিং শাইন টেক্সটাইলের মতো কোম্পানিও ভুয়া আর্থিক বিবরণীতে প্রথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন পায়। এছাড়া, মূল্য নির্ধারণে ‘ফ্লোর প্রাইস’ চালু এবং বন্ধ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বিতর্ক তৈরি করে। ২০২০ সালে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বেও স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উঠে। তার সময়ে বাজারে পতন ঠেকাতে ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা এবং কিছু বিতর্কিত বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১৮ আগস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ব্যাংকার পেশাজীবী খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। একদিন পর ১৯ আগস্ট সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি অতীতের দুর্নীতি খতিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জরিমানা আরোপ করলেও বাজারে অস্থিরতা বন্ধ করতে পারেনি। পাশাপাশি তিনি বিধি সংস্কারে জোর দিলেও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার ঘাটতিতে সংস্থার কর্মকর্তাদের এক ছাতার নিচে আনতে পারেননি। এতে কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সংস্থাটিকে কার্যত অচল করে তোলে-এমন অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া, তার সময়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি, বড় একটা শ্রেণির বিনিয়োগকারীর বাজার প্রস্থান এবং ট্রেকহোল্ডারদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হওয়া মতো ঘটনা ঘটেছে।

দেড় বছরে কী প্রত্যাশা ছিল, প্রাপ্তি কতটা : অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়ে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল ভালো ও মৌলভিত্তির কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। বিপরীতে পুরো দেড় বছরে একটি কোম্পানিও তালিকাভুক্ত হয়নি। প্রত্যাশা ছিল সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির পথ সহজ হবে। তবে সংস্কার হওয়া আইপিও রুলস বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য উপযোগী হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনিহায় আটকে রয়েছে। অন্যান্য সংস্কারের উদ্যোগও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার জটিলতায় আটকে পড়েছে। মোটাদাগে আইপিও রুলস, মার্জিন রুলস এবং মিউচুয়াল ফান্ড রুলসে সংস্কার করা হলেও তিনটি সংস্কারই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দেড় বছরে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার দেখা যায়নি।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার দিনে (১৯ আগস্ট ২০২৪) দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৭৭৫ পয়েন্টে ছিল। এটি দেড় বছর পর (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ৩০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে নেমেছে। এই সময়ের মধ্যে বাজারে লেনদেন কমে ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যায়, যার ফলে পুরো শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৮৭ হাজার বিনিয়োগকারী। শতাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শাখা ও মূল অফিসও বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা মাকসুদের পদত্যাগ চেয়ে বিএসইসি অবরোধসহ দফায় দফায় রাস্তায় নামেন। তা সত্বেও অন্তবর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে পদে বহাল রাখার অভিযোগ উঠে।

বিএসইসির নতুন নেতৃত্বে আলোচনায় যারা : নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ না পেরোতেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদগুলোতে দায়িত্ব নিতে জোরালো তদবির শুরু হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কমিশনের বর্তমান নেতৃবৃন্দ পদে থাকবেন, নাকি পদ ছাড়তে হবে তা কোন পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে, এরই মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নতুন কমিশনে দায়িত্ব নিতে তদবির শুরু করেছেন অনেকে। কেউ আবার নিজে থেকে তদবির না করলেও তাকে দায়িত্বে পেতে অন্য পক্ষ থেকে তদবির করা হচ্ছে। অনেকে আবার দায়িত্ব পালনে আগ্রহী না হলেও আলোচনায় আসছে তার নাম।

জানা গেছে, কমিশনের শীর্ষ পদে (চেয়ারম্যান) নিয়োগ পেতে এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধ ডজন আবেদন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই তালিকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কমিশনের দীর্ঘ বছর কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, বর্হিবিশ্বের পুঁজিবাজারে অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বাজার অংশীজনসহ অনেকের নাম। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন দুই যুগের বেশি সময় বিএসইসিতে কাজের অভিজ্ঞ সাবেক কমিশনার এটিএম তারিকুজ্জামান। আলোচনায় রয়েছেন পুঁজিবাজারে দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞ ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি ও ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের পরিচালক সাইফুল ইসলামও।

তালিকায় এশিয়ার বৃহত্তম হেজ ফান্ড (সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান) টাইবোর্ন ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি তানভীর গনির নামও রয়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা বাংলাদেশি এই বংশদূতের নিয়ন্ত্রনাধীন প্রতিষ্ঠানে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার নামও একটি পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে তিনি আগ্রহ দেখাননি। তার ভাষায়, অনেকে নাম প্রস্তাব করেন ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়ার আশায়। সরকারের উচিত নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া।

সংস্কারে বিএনপি সরকারের গুরুত্ব কতটা : প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শেয়ারবাজার সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রতিশ্রæতিও দেওয়া হয়। এছাড়া দলটির ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আনয়ন, কারসাজি বন্ধ করা, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠন, কর্পোরেট বন্ড ও সুকুক প্রবর্তন এবং প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু করার অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্য করা, স্টার্টআপ ও এসএমই খাতের জন্য ‘ভিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ ব্যবস্থা চালু করা, পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসারের ব্যাপারেও অঙ্গীকার করা হয়।

নির্বাচনে জয়লাভের পর গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারবাজারে একটা বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা আছে। যা হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে। জনগণ যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এই বাজার পরিচালিত হতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপোস করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে একটা পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন আনতে হবে। বিএসইসিকে নিয়ে আমাদের অনেকগুলো আইনকানুন পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে আমরা একটি ভালো শেয়ার বাজারে পাই। জনগণ সেখানে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে। দেশি ও বিদেশি ফান্ড আনতে হবে শেয়ারবাজারে। এই বাজারের উন্নয়নের মাধ্যমে সারা দেশের উন্নয়ন হবে। শেয়ারবাজারের মাধ্যমে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

অংশীজনদের মতে, নতুন সরকার যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বার্থসংঘাতমুক্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারে, তবে দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরতে পারে। ১৯৯১-৯৫ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়ে পুঁজিবাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার সংকটাপন্ন কিন্তু অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের নেতৃত্ব কাদের হাতে তুলে দেয়- এবং তারা কতটা কার্যকরভাবে বাজারে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ