খেলা ডেস্ক রিপোর্টঃ লক্ষ্যটাকে কোনো ভাবেই বড় বলা যাবে না। মাঝারি মানের সেই লক্ষ্য সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের ফিফটি আর লিটন দাসের ফিফটি প্রায় ইনিংসের পরও পূরণ করতে পারল না বাংলাদেশ। হার দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শুক্রবার ২৬ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। ২৪৮ রানের লক্ষ্যে ২২১ রানে গুটিয়ে গেছে দলটি।
ন্যাথান স্মিথের ওভারের প্রথম বল ছক্কায় উড়িয়ে ৫৮ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তাওহিদ হৃদয়। এক বল পর আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় হেনরি নিকোলসের হাতে ধরা পড়লেন এই মিডলঅর্ডার। ৬০ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে তিনি করেন ৫৫ রান। সেই সাথে ৪৮.৩ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
স্মিথেরই করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে টানা দুই বলে বোল্ড হন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর সাইফ ও লিটনের ব্যাটে ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
৭৬ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ রান করা সাইফের বিদায়ে ভাঙে জুটি। পরপরই ফেরেন ৬৮ বলে ৪৬ রান করা লিটনও।
এরপরও হৃদয় ও আফিফ হোসেনের ফিফটি জুটিতে (৭৯ বলে ৫২) সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখে বাংলাদেশ। ৪৯ বলে ২৭ রান করে আফিফ ফিরতেই আর কেউ হৃদয়কে সঙ্গ দিতে পারেননি। লড়াইটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে পারেননি হৃদয়ও।
১০ ওভারে ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার ব্লেয়ার টিকনার। স্মিথ নেন ৪৫ রানে ৩টি।
তবে ৫৮ বোল ৫৯ রানের ইনিংসের পর ২৫ রানে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক ডিন ফক্সক্রফট।
এর আগে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তুলতে পারে নিউজিল্যান্ড।
১০ ওভারে ২ মেডেনসহ স্রেফ ২৭ রান খরচায় ২ উইকেট নেন শরিফুল। ২টি করে শিকার ধরেন তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনও।
খরুচে বোলিং করেন নাহিদ রানা। ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে এই গতিময় পেসার পান ১ উইকেট। ৫৪ রানে ১টি শিকার ধরেন মিরাজও।
পুরো ম্যাচে একটিও ছক্কা মারতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ওভার কাটা হয়নি এমন ওয়ানডেতে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ছক্কা মারতে ব্যর্থ হলো কিউইরা। সবশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রাথমকি পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ছক্কা মারতে পারেনি তারা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার টসভাগ্যে হাসেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। সবুজাভ উইকেটে তিনি আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
শুরু থেকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা বাংলাদেশ সপ্তম ওভারে পায় প্রথম উইকেটের স্বাদ। শরিফুলের দুর্দান্ত ডেলিভারি নিক কেলির ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্প ফেলে দেয়। কেলি ফিরেন ২৩ বলে ৭ রান করে।
নিজের পরের ওভারে আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন শরিফুল। স্লিপে তার বলে নতুন ব্যাটার উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ তালুতে রাখতে পারেননি সাইফ হাসান।
বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিল দ্বিতীয় উইকেটে হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং জুটি। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে ৮৮ বলে ৭৩ রানের সেই জুটি ভাঙেন রিশাদ।
রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্লিপে তানজিদের হাতে ধরা পড়েন ৪২ বলে ৩০ রান করা ইয়াং। স্লিপেই ১ রানে জীবন পেয়েছিলেন তিনি।
অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (১৫ বলে ১৪) থিতু হতে দেননি মিরাজ। পরের ওভারেই ওপেনার হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে সবচেয়ে বড় শিকারটি ধরেন রিশাদ।
পঞ্চম উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ধীরে ধীরে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ফক্সক্রফট ও মোহাম্মাদ আব্বাস। কিন্তু ৩৬ তম ওভারের চতুর্থ বলে তাঁদের জুটি ভাঙেন শরিফুল। উইকেটের পেছনে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩০ বলে ১৪ রান করা আব্বাস।
নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না তাসকিন। নিজের অষ্টম ওভারে পান সেই স্বাদ। জশ ক্লার্কসনের স্টাম্প উড়িয়ে উইকেট শিকারের উল্লাস করেন ডানহাতি পেসার।
১৬ বলে ৮ রানে ফিরেন ক্লার্কসন। ফক্সক্রফটের সঙ্গে তাঁর ২৭ রানের জুটিও ভাঙে।
এরপর দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ফক্সক্রফট। ২০২৩ সালে মিরপুরে অভিষেকে তিনে নেমে শরিফুল ইসলামের প্রথম বলেই আউট হয়েছিলন তিনি। তিন বছর পর আরেকটি ওয়ানডে খেললেন মিরপুরেই। এবারে ৫২ বলে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। নাহিদ রানার ইয়োর্কারে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৮ বলে ৮ চারে করেন ৫৯ রান।
শেষ ওভারে ১০ রান দিয়ে ব্লেয়ান টিকনারের (১০ বলে ৭) উইকেট পান তাসকিন। ২২ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন নাথান স্মিথ।
সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের দলের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই সিরিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, স্মিথ ২১*, টিকনার ৭, লেনক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, তানজিদ ২, শান্ত ২, লিটন ৪৬, হৃদয় ৫৫, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, নাহিদ ০*; ও’রোক ৯-০-৫১-১, স্মিথ ৯.৩-১-৪৫-৩, টিকনার ১০-০-৪০-৪, ক্লার্কসন ৪-০-২৭-০, লেনক্স ১০-০-৩২-১, ফক্সক্রফট ৬-০-২৫-১)
ফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: ডিন ফক্সক্রফট
সিরিজ: তিন শ্যাচের সিরিজে নিউজিল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে।
![]()