• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন

সহিংস বিক্ষোভ দমনে ফ্রান্সে কারফিউ জারি

admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল প্যারিসের কিছু জায়গাসহ দেশটির আরও কয়েক শহরে রাতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজধানী প্যারিসের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মানুষের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় কারফিউ থাকবে। এ ছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের চলাচল ও জনসমাগম সীমিত করতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর নিস -এ বিশেষ কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহর এবং উত্তরের লিল ও অন্যান্য শহরে আংশিক কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার এই আদেশ জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘বিশৃঙ্খলা তৈরি’ করার জন্য ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার জরুরি বৈঠক শেষে লেকর্নু বলেন, ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ স্বীকার করেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সহিংস বিক্ষোভে ২ হাজারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীতে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষার মান নিয়ে গত মাসে এই অসন্তোষ শুরু হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলার পরে দ্রুত তা রূপ নেয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানোর আন্দোলনে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি। এর মধ্যেই ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশটিতে।

আন্দোলন চলতি সপ্তাহে সহিংস হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ নানা ঘটনা দেখা যায়। ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এরই মধ্যে এসব ঘটনায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি হলে জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সাময়িক কিছু বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে কারফিউ জারি, মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিভিশন দেখে ফরাসিরা মনে করছেন, সর্বত্র বিশৃঙ্খলা চলছে। সৌভাগ্যক্রমে, বাস্তবতা এমন নয়। শহরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মূলত অস্থিরতা চলছে।’ বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সের্ঝ পাপাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন লেকর্নু।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। সপ্তাহ শেষে কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে মাখোঁ তাঁর পদত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। মাখোঁর দপ্তর সোমবার জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর পরিবর্তে মাখোঁ তাঁকে সড়কের ব্যারিকেড ও লুটপাট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আগাম পরিস্থিতি আঁচ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ছিল বলে মাখোঁ উল্লেখ করেছেন। সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, লুটপাট ও ভাঙচুর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্যদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’ আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘উগ্র বামপন্থি আন্দোলন’ দেশজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন লেকর্নু। তিনি বলেন, ‘এমন একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি এবং নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যও সক্রিয় করা হতে পারে।’

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ