যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভিসা জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ বিশ্বের শীর্ষ আটটি তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এক্সচেঞ্জ ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির নয়টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাইক্রোসফট সিস্টেমটির চরম অপব্যবহার করেছে। ভ্যান্স জানান, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-ওয়ানবি ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার কর্মীর গ্রিন কার্ডের সুবিধা গ্রহণ করেছে। শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং নিশ্চিত করেছেন যে, এখন থেকে স্থায়ী লেবার সার্টিফিকেশন বা পিইআরএম-এর কোনো নতুন বা বিবেচনাধীন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। স্থগিতাদেশের তালিকায় মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি ছাড়াও কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনির মতো বড় নামগুলো রয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে আমাজন, টিসিএস, ইনফোসিস, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট ছিল এইচ-ওয়ানবি ভিসার সবচেয়ে বড় আবেদনকারী। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে ৬ হাজার ৩০০ এইচ-ওয়ানবি (ঐ-১ই) ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার কর্মীর গ্রিন কার্ডের সুবিধা নিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকেও নজর বাড়ানো হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন ও এমআইটি-এর মতো ৯টি বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে শিক্ষাবিদরা এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের হার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে মাইক্রোসফট তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের এইচ-ওয়ানবি আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের মেয়াদ বৃদ্ধি বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা স্থানীয় ও বিদেশি কর্মীদের সমান সুযোগ ও পারিশ্রমিক প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
![]()