• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

admin
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ টানা ৪০ দিন ভয়াবহ সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বেশ কিছু বিরোধপূর্ণ বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হতে না পারায় দীর্ঘমেয়াদি কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রথম দফার ওই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আজ বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসতে পারে।

যুদ্ধবিরতি ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার আগেই ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন করে মুখোমুখি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। নতুন দফার আলোচনার বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

একই সংখ্যক প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে ওই কূটনীতিক ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন দফার আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভা নিয়ে আলোচনা চলছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। এখন পর্যন্ত দুটি স্থানের নাম আলোচনায় রয়েছে—পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও তুরস্কের ইস্তাম্বুল। প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল ইসলামাবাদে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই আরও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর ‘আরও কয়েক হাজার’ সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো প্রচেষ্টা ‌‘ব্যর্থ হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না।

ইরান যুদ্ধ শেষের খুবই কাছাকাছি-ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ‘শেষের খুবই কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন বাহিনী ইরানে এখনও তার কাজ ‘শেষ করেনি’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় ইরান যুদ্ধ শেষের পথে। হ্যাঁ, মানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে এই যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আরও বলব, যদি এখনই আমি ইরান থেকে সবকিছু গুটিয়ে নিই- তাহলে দেশ পুনর্গঠন করতে তাদের ২০ বছর লাগবে। এবং আমরা এখনও (অভিযান) শেষ করিনি। আমরা দেখব কী হয়। আমার মনে হয় তারা খুব তীব্রভাবে একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে নীতিগত সম্মত দুদেশ-এপি: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করতে সফলতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি রক্ষার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ (এপি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে একটি ‘নীতিগত সম্মতিতে’ পৌঁছেছে।

ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং তেহরানের পাল্টা হুমকির মুখে সপ্তাহব্যাপী চলমান এই চুক্তিটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে উভয় পক্ষই আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে একমত হয়েছে।

লোহিত সাগরের পথও বন্ধের হুমকি ইরানের: ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদোল্লাহি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না।’

মার্কিন নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ রক্ষায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় অব্যাহত: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, গত রোববার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা বিনিময় ‘অব্যাহত’ রয়েছে।

ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইরানের অবস্থান ‘সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী যোগাযোগগুলোতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে’।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরান ‘খুব সম্ভবত’ আজ পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তা দেবে। এই সফরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসমাইল বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ইরানকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে হবে। তবে সমৃদ্ধকরণের ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই আরও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর ‘আরও কয়েক হাজার’ সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন পাল্টাপাল্টি হুমকি: ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে চীন বলেছে, ওয়াশিংটন যদি ভিত্তিহীন অজুহাতে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তাহলে বেইজিং-ও কঠোর ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।

গত ১২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, বেইজিং যদি তেহরানকে কোনও ধরনের সামরিক সাহায্য দেয়, তাহলে তিনি চীনা আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। আগামী মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তার আগেই এই হুমকি দুই পরাশক্তির মধ্যে আবারও বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী- চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বেইজিং ইতোমধ্যে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি চালান পাঠিয়ে থাকতে পারে।

১৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি এই মিথ্য অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে দেয়, তাহলে চীন নিজের স্বার্থ রক্ষায় অবশ্যই দৃঢ় ও কার্যকর পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।’

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, চীন সবসময়ই সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও নিজস্ব কঠোর নীতিমালা মেনে চলে।

মার্কিন নৌ অবরোধে ইরানের নতুন কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ইরান। এখন থেকে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তবাণিজ্য আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাধা আসায় নতুন এই কৌশল নিল ইরান।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি সীমান্ত প্রদেশগুলোর গভর্নরদের নিরবচ্ছিন্ন পণ্য আমদানি ও রফতানি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান সরকারের ওয়েব পোর্টালে প্রকাশিত একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসাধারণের জীবনযাত্রার ওপর শত্রুর হুমকির প্রভাব নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে সীমান্ত অঞ্চলের গভর্নরদের উচিত সীমান্ত বাণিজ্যের আরও শক্তিশালীকরণ এবং উন্নয়ন করা। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্যের রফতানি অন্তর্ভুক্ত। এই উদ্দেশ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক সব সম্ভাব্য সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে এবং সীমান্ত এলাকার সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

সৌদিসহ পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

গত সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।

যেসব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, সেগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। চিঠিতে ইরানি দূত উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়ে এই দেশগুলো সরাসরি দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় নিয়ে দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় সম্মত: গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে ও স্থানে’ পরবর্তী দফার বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার প্রথম এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আশা প্রকাশ করেছে যে, এই সংলাপ ২০২৪ সালের চুক্তির পরিধি ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে রূপ নেবে।

যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে, শত্রুতা অবসানের যেকোনো চুক্তি অবশ্যই দুই দেশের সরকারের মধ্যে হতে হবে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকতে হবে; অন্য কোনো পথে পৃথকভাবে আলোচনা করা যাবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমে লেবাননের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন সহায়তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ খুলে যেতে পারে এবং উভয় দেশের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।

ইসরায়েল পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সব অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান করতে এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে টেকসই শান্তি অর্জনে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে লেবানন ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঘোষিত শত্রুতা অবসানের চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতিগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট চরম মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে তেহরানও। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক হামলা চালায় তেহরান। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে আসে। কেননা, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতেকে স্থায়ী যুদ্ধাবসানের দিকে নিয়ে যেতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। কিন্তু ২২ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো চুক্তিস্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে ইসলামাবাদ বৈঠক। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শিগগিরই (সম্ভবত আজই) ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ